বেনজীরের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে পরোয়ানার আদেশ

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:০৭ এএম

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছে আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর স্পেশাল জজ আদালতের সিনিয়র জজ মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন। আদেশের কপি আজ মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে দুদক।

ওই চিঠি পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন দুদকের শীর্ষপর্যায়ের তিনজন কর্মকর্তা।

তারা বলেছেন, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-সন্তানের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করে দুদক। তাদের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগ অনুসন্ধানকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল, কিন্তু তারা দুদকে হাজির হননি। তারা কোথায় আছেন, এটা নিশ্চিত নন দুদক কর্মকর্তা। এখন বেনজীরকে ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা প্রয়োজন। তাই বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ চেয়ে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আবেদন করেছেন। আদালত ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ দিয়েছে। এখন দুদক বেনজীরের গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাবে। মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

জানতে চাইলে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মীর আহমেদ আলী সালাম মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম ঢাকা মহানগর স্পেশাল আদালতে সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড অ্যালার্ট জারির আদেশ চেয়ে আবেদন করেন। বিচারক জাকির হোসেন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে রেড অ্যালার্ট জারির আদেশ দেন। ওই আদেশবলে রেড অ্যালার্ট জারির জন্য দুদক থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাবে।

জানতে চাইলে জননিরাপত্তা বিভাগের একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুদকের চিঠি পাওয়ার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখায় চিঠি পাঠানো হবে। তারাই পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।

দুদকের তথ্যমতে, গত বছরের ৩১ মার্চ বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে আরও কয়েকটি গণমাধ্যমে এই সংবাদ প্রকাশ হয়। কমিশন ওই সংবাদ আমলে নিয়ে গত বছরের ১৮ এপ্রিল বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-সন্তানের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে। দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন একটি তিন সদস্যের টিম অনুসন্ধান করে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক নিয়ামুল হাসান গাজী এবং জয়নাল আবেদীন।

দুদকের টিম অনুসন্ধান শেষে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর সম্পদের তথ্য গোপনসহ ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অপরাধে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে পৃথক চারটি মামলা করে।

মামলায় বলা হয়, বেনজীর ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ২ কোটি ৬২ লাখ টাকা সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া তার স্ত্রী জীশান মীর্জার ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১৬ কোটি ১ লাখ টাকার তথ্য গোপন; তার বড় মেয়ে ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার এবং মেজো মেয়ে তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীর ৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

আদালতের আদেশে গত বছরের ২৪ এপ্রিল বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৬৯৭ বিঘা জমি, ১৯টি কোম্পানির শেয়ার, ঢাকায় ১২টি ফ্ল্যাট, ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব এবং তিনটি শেয়ার ব্যবসার বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট (বিও অ্যাকাউন্ট) জব্দ ও অবরুদ্ধ করে দুদক। এরপর গত ২৩ ও ২৬ মে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের পৃথক দুটি আদেশে বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকায় ৬২১ বিঘা জমি, ঢাকার চারটি ফ্ল্যাট এবং ৩৩ ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়।

জানা গেছে, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের ৪ মে সপরিবারে দেশ ছেড়েছেন বেনজীর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত