শাহবাগে শিক্ষকদের হটাতে লাঠিপেটা, সাউন্ডগ্রেনেড

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:০৮ এএম

দাবি আদায় না হলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে লাগাতার অবস্থান করার ঘোষণা দিয়েছেন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক (তৃতীয় ধাপ) এবং ১-১২তম এনটিআরসিএর নিবন্ধিত নিয়োগপ্রত্যাশী শিক্ষকরা। গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে এমন ঘোষণা দেন তারা। এর আগে গতকাল দুপুরে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। তখন ওই মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। এ ছাড়া জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেডও ব্যবহার করা হয়। তাতে সাময়িকভাবে তারা মোড় ছাড়লেও পরে তারা অবস্থান নেন জাতীয় জাদুঘরের সামনের সড়কে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সেখানে তারা অবস্থান চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছে।

গতকাল দুপুর ১টার দিকে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। ২টার দিকে পুলিশের একটি দল এসে আন্দোলনকারীদের শাহবাগ মোড় থেকে উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তাদের তুলে দিতে প্রথমে লাঠিচার্জ করা হয়। পরে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। আন্দোলনকারীদের টেনেহিঁচড়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টাও করেন তারা।

পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেডে চারজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন এনটিআরসির রিয়াজ উদ্দিন (৪২), প্রাথমিক শিক্ষক নাজমুন নাহার কনা (৩০), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সীমা আক্তার (২৫) ও ইডেন মহিলা কলেজে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তানজিয়া (২৩)। আহত তানজিয়া ও সীমা জানান, তারা পথচারী। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক মহিলাকে মারতে দেখে ফেরাতে যান। পরে পুলিশ তাদের মারধর করে।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের স্থান ত্যাগ করা হবে না। একই সঙ্গে এক ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি, আন্দোলনে পুলিশি হামলায় আহতদের সুচিকিৎসা, অবৈধ রায় বাতিল করে দ্রুত নিয়োগ দিতে হবে। এ সময় নারীদের ওপর পুলিশের ‘হামলার’ নিন্দাও করেন তারা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের বারবার বলা হয়েছে নির্দিষ্ট স্থানে বা সড়ক ছেড়ে আন্দোলন করুন। কিন্তু তারা কোনো কথা শোনেননি। তাই তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই সময় কয়েকজন পুলিশের ওপর মারমুখী অবস্থান নেয়। তখন পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরাতে লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। তবে সংখ্যা এখনই বলা যাচ্ছে না। আমরা আন্দোলনকারীদের নিয়ে থানায় রেখেছি। যাচাই-বাছাই শেষে ছেড়ে দেওয়া হবে। আর কাউকে গ্রেপ্তার দেখানো হলে পরে জানানো হবে।

গতকাল দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, শাহবাগ মোড়ের বামপাশের সড়কে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা এবং ডানপাশের সড়কে এনটিআরসিএ’র নিবন্ধিত নিয়োগপ্রত্যাশীরা অবস্থান নিয়েছেন। আর চারপাশে অবস্থান নিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। এর মধ্যে শাহবাগ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে রাখা হয়েছে একটি জলকামান এবং এপিসি।

এনটিআরসিএ’র নিবন্ধিত নিয়োগপ্রত্যাশী শিক্ষক পরিষদের আহ্বায়ক জিএম ইয়াছিন বলেন, এনটিআরসিএ এখন পর্যন্ত ১৭টি নিয়োগ পরীক্ষার সুপারিশ করলেও মাত্র ৫টি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছে। এতে প্রায় ১২-১৩ হাজার যোগ্য শিক্ষক বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। বহু নিবন্ধিত শিক্ষক একাধিকবার পরীক্ষায় পাস করেও চাকরির সুপারিশ পাননি। অথচ কিছু লোক আবেদন ছাড়াই নিয়োগ পেয়েছেন।

অন্যদিকে প্রাথমিকের নিয়োগপ্রত্যাশীরা বলছেন, আমাদের নিয়োগ বাতিল করে যে রায় দেওয়া হয়েছে সেটি বৈষম্যমূলক। এ সরকারই আমাদের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে। আবার আমাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। এটি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৩ সালের ১৪ জুন তৃতীয় ধাপের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের ২৯ মার্চ। লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় একই বছরের ২১ এপ্রিল। ১২ জুন ভাইভা সম্পন্ন হয়। আইন মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে ৩১ অক্টোবর ফল প্রকাশিত হয়। এতে ৬ হাজার ৫৩১ জন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। সুপারিশপ্রাপ্ত হননি এমন ৩১ জন হাইকোর্টে রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬ হাজার ৫৩১ জনের নিয়োগ কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ ৬ হাজার ৫৩১ জনের নিয়োগ কার্যক্রম ৬ ফেব্রুয়ারি বাতিল করে রায় দেয় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত মেধার ভিত্তিতে নতুন করে ফল প্রকাশের আদেশও দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত