তরুণদের আগ্রহ উপন্যাস ও সায়েন্স ফিকশনে

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:২০ এএম

জমে উঠেছে বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে বইমেলা। প্রতিদিনই লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের পদচারণায় জমজমাট এখন বইমেলা প্রাঙ্গণ। সেই সঙ্গে বাড়ছে বেচাবিক্রি। আসছে নতুন বইও। প্রকাশিত গ্রন্থের অধিকাংশই কবিতার বই। প্রবন্ধ নিবন্ধ ও গবেষণামূলক গ্রন্থের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম। ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে উপন্যাস ও সায়েন্স ফিকশন।

প্রকাশনা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক দিনে যারা বই কিনতে এসেছেন তাদের মধ্যে উপন্যাসের ক্রেতাই বেশি। এরপরই রয়েছে সায়েন্স ফিকশন। এর মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের বইয়ে আগ্রহ বেশি। এ ছাড়া তরুণ লেখকদের বইও নজর কাড়ছে মেলায় আসা বইপ্রেমীদের। জনপ্রিয় তরুণ লেখকদের বই, বিশেষ করে উপন্যাস বেশি কিনছেন তরুণরা। যেসব স্টলে এসব বইয়ের আধিক্য, সেসব স্টলেই দেখা মিলছে তরুণদের। ফলে এসব স্টলে ভিড় থাকছে সব সময়।

অনুপম প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাদের প্যাভিলিয়নে জহির রায়হান, হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস বেশি চলছে। এর মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘মিছির আলী’ ও ‘হিমু’ বেশি চলছে। এরপর জাফর ইকবালসহ অন্যদের সায়েন্স ফিকশন বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া আমরা বিজ্ঞানকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণে বিজ্ঞান এবং গণিতের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে।

কাকলী প্রকাশনীর রেজাউল করিম বলেন, আমাদের প্যাভিলিয়ন মানেই হুমায়ূন। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস বিক্রির শীর্ষে। এ ছাড়া সায়েন্স ফিকশন, থ্রিলার, গল্প, গোয়েন্দা সিরিজের বইগুলো চলছে বেশি। সবচেয়ে কম চলছে কবিতা।

অন্য প্রকাশের সেলস ম্যানেজার ইসরাত জাহান মৌ বলেন, হুমায়ূন আহমেদের বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। এরপর তরুণ লেখকদের মধ্যে মৌরি মরিয়ম, সাদাত হোসেন, সোহাইল রহমানের বই পাঠকদের পছন্দের শীর্ষে। গল্প এবং কবিতার বই সবচেয়ে কম বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার ছিল অমর একুশে বইমেলা ২০২৫-এর ১১তম দিন। মেলা শুরু হয় বিকেল ৩টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। আজ নতুন বই এসেছে ৯১টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘আদর্শায়িত কল্পলোক ও শাহেদ আলীর দ্বিধাচিত্ত মন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিবলী আজাদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মোস্তাক আহমাদ দীন। সভাপতিত্ব করেন চঞ্চল কুমার বোস।

আলোচক বলেন, রাজনীতি-সচেতন সক্রিয় ব্যক্তিত্ব শাহেদ আলী সাহিত্যের বিভিন্ন অঙ্গনে তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তবে তার রাজনৈতিক ও সৃষ্টিশীল জীবনকে কখনো একাত্ম করেননি। এমনকি তার গল্পের মধ্যে কঠোর নীতিবোধও আরোপ করেননি। তার রচনায় জীবনবাস্তবতার যে চিত্র তিনি এঁকেছেন সেখানে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির উপস্থিতিই আমাদের চোখে পড়ে। ভাষার ক্ষেত্রে তিনি লোকজ, আরবি, ফারসি, উর্দু শব্দরাজিকে সাবলীলভাবে তার সাহিত্যে স্থান দিয়েছেন।

লেখক বলছি মঞ্চে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন নাসির আলী মামুন এবং মামুন সারওয়ার। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেন কবি মুস্তাফা মজিদ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী শফিকুল ইসলাম বাহার এবং আনজুমান আরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত