চার গোল, চার লাল কার্ড, এক বিশাল সংঘর্ষ এবং উত্তেজনায় ঠাসা ৯৮ মিনিট—গুডিসন পার্কের শেষ মেরসিসাইড ডার্বি ইতিহাসে জায়গা করে নিলো এক নাটকীয় অধ্যায় হিসেবে। লিভারপুলের জয় প্রায় নিশ্চিত ছিল, কিন্তু জেমস তারকোভস্কির শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত গোল বদলে দিলো দৃশ্যপট।
মোহামেদ সালাহর দেরিতে করা গোল লিভারপুলকে ৪২তম গুডিসন জয় উপহার দিতে যাচ্ছিল। কিন্তু ম্যাচের যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে তারকোভস্কি আলিসনের জালে বল পাঠিয়ে গুডিসনে লিভারপুল-এভারটন দ্বৈরথকে ৪১-৪১ সমতায় রেখে গেলেন। রেফারি ভিএআরের মাধ্যমে অফসাইড ও বেটোর কনাটেকে ফাউলের দাবি খতিয়ে দেখেন। দুই সিদ্ধান্তই এভারটনের পক্ষে যায়, আর ঠিক পরেই বাঁশি বাজতেই উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে মাঠে।
দুকুরে ও জোন্সের মধ্যে হাতাহাতি থেকে বিশাল সংঘর্ষ বাধে। দুজনই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। লিভারপুল কোচ আর্নে স্লট এবং তাঁর সহকারী সিপকে হুলসফও লাল কার্ড দেখেন রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করায়। প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম অনুযায়ী, স্লট ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে পারেননি।
ম্যাচের আগে গুডিসন পার্কে এভারটন সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা যায়। ম্যাচেও সেটার প্রতিফলন ছিল। ডেভিড ময়েসের দল লিভারপুলকে প্রথম থেকেই চাপে রেখে খেলেছে। দ্রুত ফ্রি-কিক নিয়ে বেটো আলিসনের পায়ের নিচ দিয়ে বল পাঠিয়ে এভারটনকে এগিয়ে দেন। তবে সালাহর চমৎকার ক্রসে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের নিখুঁত হেডে লিভারপুল সমতা ফেরায়।
প্রথমার্ধেই পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখা যায়, যেখানে ইদ্রিসা গুয়ে ও কনর ব্র্যাডলি ভাগ্যবান ছিলেন দ্বিতীয় হলুদ না দেখায়। দ্বিতীয়ার্ধে এভারটনের বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট হলেও শেষ মুহূর্তের তারকোভস্কির গোল ঐতিহাসিক এক সমাপ্তি এনে দেয়।
লিভারপুল যদি জয় পেত, তাহলে পয়েন্ট তালিকায় ৯ পয়েন্টে এগিয়ে যেত। কিন্তু তারকোভস্কির গোলে তারা ৭ পয়েন্টের ব্যবধানে থাকতে বাধ্য হয়েছে। গুডিসন পার্কে শেষ মেরসিসাইড ডার্বির শেষ গোলটি তারকোভস্কির পায়ে লেখা থাকবে চিরদিন।
'আল্লাহ চাইলে রেকর্ডের পর রেকর্ড হতেই থাকে'
সাত বছর পর ফিরছে তৃতীয় বিভাগের যোগ্যতা লিগ, এন্ট্রি ফি কমিয়ে ১ লাখ