ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন: জিএমপি কমিশনার

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:৫১ পিএম

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান। তিনি বলেছেন, পুলিশ-প্রশাসন আপনাদের পাশে আছে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপনারা প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। কখনোই ওই হায়েনার দল আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের রাজবাড়ি ময়দানে ধীরাশ্রমের হামলায় নিহত শিক্ষার্থী আবুল কাসেমের জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা থেকে আবুল কাসেমের লাশ বহনকারী গাড়ি রাজবাড়ি এসে পৌঁছায়।

জানাজা শেষে সেখান থেকে কাসেমের লাশ বোর্ড বাজারের দক্ষিণ কলমেশ্বরের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে আরেকটি জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জানাজার আগে পুলিশ কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান বলেন, বাংলাদেশে যারা পলাতক তারা আবারও হায়েনার মতো আক্রমণ করেছে। সে আক্রমণের মাধ্যমে আজকের প্রথম শহিদ আবুল কাসেম।

তিনি বলেন, পুলিশের একটি ঐতিহ্যবাহী ইতিহাস আছে। সে ইতিহাসের মধ্যদিয়ে পুলিশ গড়ে উঠেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের পুলিশ প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলে রাজারবাগ থেকে। সেই পুলিশকে গত ১৫ বছর যাবত জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে। আর ফ্যাসিবাদের অধীনে যখন পুলিশ কাজ করে তখন জনগণের পুলিশ আর হতে পারেনি।

জিএমপি কমিশনার বলেন, আমি আজ কথা দিচ্ছি পুলিশ বাহিনীর সব সদস্য শপথ নিয়েছে তারা জনগণের পুলিশ হতে চায় এবং জনগণের স্বার্থে কাজ করতে চায়। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে যে ফ্যাসিবাদ বিতাড়িত করেছেন সে শক্তি যদি আবারও মাথাচাড়া দেয় একসঙ্গে দাঁড়িয়ে তাদের রুখে দেব।

তিনি জানান, অপারেশন ডেভিল হান্টের মাধ্যমে প্রচুর সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা মনে করি সন্ত্রাসী কোনো দলের হয় না। ফ্যাসিবাদ কোনো দলের হয় না। যারা রাজনীতি করে তারা ফ্যাসিবাদ হয় না। হতে পারে না। রাজনীতি আর ফ্যাসিবাদ এক জিনিস নয়। জনগণের রাজনীতি যারা করে আমরা তাদের সাথে কাজ করতে চাই।

উল্লেখ্য, গাজীপুর মহানগরীর ধীরাশ্রম দক্ষিণখান এলাকায় সাবেক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের পৈত্রিক বাড়িতে গত শুক্রবার রাতে দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালায়। খবর পেয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যরা হামলাকারীদের প্রতিহত করতে সেই বাড়িতে যান। এ সময় পরিকল্পিতভাবে আওয়ামীলীগের লোকজন ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়।

হামলায় ১৭ জন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেলে আবুল কাসেম মারা যান। তিনি মহানগরীর দক্ষিণ কলমেশ্বর এলাকার হাজী জামাল উদ্দিন চিশতির ছেলে।

হামলার ঘটনায় ৯ ফেব্রুয়ারি মামলা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গাজীপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. আব্দুল্লাহ আল মোহিত। এতে ২৩৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ২০০-৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি করা হয়েছে আমজাদ মোল্লা নামের একজনকে। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী ও সাবেক মন্ত্রী মোজাম্মেলের ভাতিজা। এ মামলায় সর্বশেষ ১৩২ জনকে গ্রেপ্তার করার তথ্য পাওয়া গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত