রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমা মোটেও সুখকর নয়। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগে আক্রান্ত তাদের জন্য। রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ সোডিয়াম। আর লবণেই সবচেয়ে বেশি সোডিয়াম থাকে। মাত্রাতিরিক্ত লবণ গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। শরীরে লবণ বা সোডিয়াম কম থাকলেও নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। সোডিয়াম মূলত এক ধরনের ইলেক্ট্রোলাইট, যা শরীরে পানির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা খুব কম হলে হাইপোনেট্রিমিয়া হয়। ফলে শরীরে তরলের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।
লক্ষণ : শরীরে সোডিয়ামের অভাব দেখা দিলে মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, ক্লান্তি, অবসাদ, পেশির দুর্বলতা, অস্থিরতা, বিরক্তি, এনার্জি না থাকা, বমি বমি ভাব এবং বমি, কোমা, অলসতা, খিঁচুনি দেখা দিতে পারে।
ডায়রিয়া বা অত্যধিক বমি হলে রক্তে সোডিয়াম মাত্রা কমতে পারে। অত্যধিক ঘামের ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে গেলে লবণের মাত্রা কমে যেতে পারে। ডায়াবেটিস বা কিডনির অসুখ থেকে বেশি বা কম মাত্রায় মূত্র হলে কিংবা খাদ্যে লবণের মাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বা কম হলেও ইলেকট্রোলাইটসের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। অনেক সময় বিশেষ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ বা প্রেশারের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মিনারেলের ভারসাম্য নষ্টের কারণ হয়। অত্যধিক ডায়েট কন্ট্রোল করলেও সোডিয়াম কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। হাইপোনেট্রিমিয়ার কারণে মস্তিষ্কের সমস্যা ৪৮ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কম থাকলে মস্তিষ্কে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেখান থেকে জ্ঞান হারিয়ে কোমায় চলে যাওয়া এমনকি মৃত্যু পর্যন্তও হতে পারে। নারীর মেনোপজের সময়কালে মনে রাখতে না পারার মতো মস্তিষ্কের বিভিন্ন সমস্যার কারণই হলো এই হাইপোনেট্রিমিয়া।
প্রতিকার : সোডিয়ামের ভারসাম্যের অভাব যেকোনো বয়সেই হতে পারে। তবে শিশু, বয়স্ক ও অন্তঃসত্ত্বা নারীর ঝুঁকি বেশি। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হলে খুব দ্রুত ওষুধ বন্ধ করে দিতে হবে। শরীরে পানি-লবণের মাত্রা ধরে রাখতে সারা দিনে কতটা পানি পান করছেন তার ওপরই নির্ভর করবে সোডিয়ামের মাত্রা। যদি ঘন ঘন মূত্রত্যাগ করেন, তাহলে পরিমাণ মতো পানিও পান করতে হবে। ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন ইলেকট্রোলাইটস সমৃদ্ধ খাদ্য খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে বা কমিয়ে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। যেমন কলা, আলু, ড্রায়েড অ্যাপ্রিকট, আমন্ড, ডাবের জল, সয়াবিন, ফল, মাছ, মাংস চিকিৎসকের পরামর্শ মতো খেতে হবে। তার সঙ্গে কিছু ওষুধও দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। সমস্যা জটিল হলে শিরার মাধ্যমে স্যালাইন বা অন্য কোনো ধরনের ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ তরল দিতে হবে। কখনো ওষুধের মাধ্যমে মূত্রের পরিমাণ কমিয়ে বা বাড়িয়েও ভারসাম্যর চেষ্টা করা। সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন চিজ, দুগ্ধজাত খাবার, সামুদ্রিক খাবার, বিট, গাজর এবং সেলেরির মতো সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেতে হবে। রক্তে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় থাকবে। লবণই হলো সোডিয়ামের মূল উৎস। তবে অত্যধিক লবণ খাওয়াও শরীরের জন্য ক্ষতিকর। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন ৫ গ্রামের কম লবণ গ্রহণ করবেন। লবণের মাত্রা সঠিক রাখতে প্রয়োজনে ডাক্তারের সঙ্গেও পরামর্শ করে নিতে পারেন। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগে আক্রান্ত তারা অবশ্যই এ ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। পানি পান করা, ব্যায়াম বা কঠোর পরিশ্রমের ফলে শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হতে পারে। নিয়মিত প্রচুর ঘাম হলে আপনি ধরে নিতে পারেন হাইপোনেট্রিমিয়ায় আক্রান্ত। রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখতে পানির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
