এক দশকের বেশি সময় ধরে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এবারও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন প্রায় অনিশ্চিত। এমন বাস্তবতায় এনবিআর আগামী তিন অর্থবছরের জন্য আরও বাস্তবসম্মত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে।
সম্প্রতি অর্থ বিভাগের সচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সতর্ক করে বলেন, যথাযথ পর্যালোচনা ও গবেষণা ছাড়া লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলে অর্থবছর শেষে তা বরাবরের মতো ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। দেশের উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, বিগত বছরের মতো ধারাবাহিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার দায় থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।
চিঠিতে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে অনুষ্ঠিত বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উপস্থাপিত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫-২৬, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও এর অধীন সব দপ্তরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৫,৬৪,৪১১.৯২ কোটি, ৬,৪৯,০৭৩.৭১ কোটি ও ৭,৪৬,৪৩৪.৭৬ কোটি টাকা।
এতে বলা হয়, প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ বিগত বছরসমূহের রাজস্ব আদায়ের সার্বিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সংগতি রেখে নির্ধারিত হওয়া সমীচীন। উল্লিখিত রাজস্বপ্রাপ্তির প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ আপাতদৃষ্টে বাস্তবতা-বিমুখ এবং যথাযথ গবেষণা উদ্ভূত নয় মর্মে প্রতীয়মান।
লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারায় এনবিআরের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, স্ফীত অঙ্কে বাজেট নির্ধারণ করা, বছর শেষে নির্ধারণ করা বাজেট লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার চিত্র ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকায় এনবিআরের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
এদিকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমার সময়সীমা তিন দফা বাড়ানোর শেষ দিন আজ। সর্বশেষ ৩০ জানুয়ারি এক আদেশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রিটার্ন জমার সময় বাড়িয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত করে। যারা অনলাইনে নয়, সনাতনী পদ্ধতিতে কাগুজে রিটার্ন দিতে চান, তারা আজ নিজ নিজ কর কার্যালয়ে গিয়ে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর পর্যন্ত অনলাইনে ১৩ লাখ ৯৫ হাজারটি রিটার্ন দাখিল হয়েছে। এখন পর্যন্ত কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারীর সংখ্যা ১ কোটি ১২ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫৩টি।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৫৩ হাজার ৭৩০টি রিটার্ন দাখিল হয়েছে। এর মধ্যে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল হয়েছে ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯টি। রিটার্ন দাখিলকারীদের মধ্যে ব্যক্তি করদাতা ২৪ লাখ ৭ হাজার ৫৩৬ জন এবং কোম্পানি করদাতা ১১ হাজার ১০৫ জন। এ সময় আয়কর আদায় হয়েছে ৫ হাজার ৬৫৪ কোটি ৬ লাখ টাকা।
যেভাবে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে : অনলাইনে রিটার্ন জমার ঠিকানা হলো বঃধীহনৎ.মড়া.নফ। অনলাইনে রিটার্ন জমার আগে প্রথমে করদাতাকে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন নিতে করদাতার নিজের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ও বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করা মোবাইল ফোন নম্বর লাগবে। এ দুটি দিয়ে নিবন্ধন করে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন তথা ই-রিটার্ন দিতে করদাতাকে কাগজপত্র আপলোড করতে বা জমা দিতে হবে না। শুধু ওইসব দলিলের তথ্য দিলেই হবে।
