জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলে বলা হচ্ছে... Access to safe water, sanitation and hygiene is the most basic human need for health and well-being. Billions of people will lack access to these basic services in 2030 unless progress quadruples. Demand for water is rising owing to rapid population growth, urbanization and increasing water needs from agriculture, industry, and energy sectors. ইউনিসেফ বলছে ... Safe drinking-water, sanitation and hygiene are crucial to human health and well-being.
বলার অপেক্ষা রাখে না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্বাস্থ্যসম্মত গণশৌচাগার সভ্যতার মাপকাঠি। নিরাপদ খাওয়ার পানি, মানববর্জ্য ও ব্যবহৃত পানি যথাযথ নিষ্কাশন সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনাই হচ্ছে, উন্নত স্যানিটেশন। এর সঙ্গে একটি দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত ব্যবস্থা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নির্মল নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। যাতে জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়। স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের অভাবে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। নগরবাসীর স্বাস্থ্য তথা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বিষয়টি জোরদার করার অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে, স্বাস্থ্যসম্মত উন্নত স্যানিটেশন। মানুষ ছাড়াও অন্যান্য প্রাণীর স্বাস্থ্য জীবন-জীবিকার ঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে একে চিহ্নিত করা যায়। শৌচাগারের বহুমুখী প্রয়োজনীয়তার কথা বিশেষ বিবেচনা করে ২০০১ সাল থেকে ‘শৌচাগার দিবস’ পালন শুরু হলেও ২০১৩ সাল থেকে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
জানা যাচ্ছে, প্রতি বছর বাংলাদেশের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দেশে বর্তমানে ৩ কোটি ৮০ লাখ কিডনি রোগী আছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশের বেশি। বিশেষজ্ঞরা কিডনি রোগের জন্য অন্যতম কারণ হিসেবে গণশৌচাগার না থাকাকে দায়ী করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন বাসার বাইরে শৌচাগারের সুব্যবস্থা না থাকার কারণে অধিকাংশ মানুষকে বিশেষ করে নারীদের টয়লেট চেপে রাখতে হয়। ফলে নারী ও পুরুষ উভয়ের বেলায় মূত্র সংবহনতন্ত্র আক্রান্ত হচ্ছে। এক্ষেত্রে মহিলাদের আক্রান্তের হার তুলনামূলক বেশি। এতে করে কিডনির কার্যক্ষমতা একপর্যায়ে ক্রমশ কমতে থাকে। এর ফলে আরও যে সমস্যা হয় সেটি হচ্ছে, প্রজনন স্বাস্থ্যগত ক্ষতি। দিন-রাত শহরের ফুটপাত, রাস্তাঘাট, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর, লঞ্চঘাট, হাটবাজার, দোকানপাট, শপিংমল, অলি-গলিতে জন-মানুষের ঢল। নগরের বাসিন্দারা নানা প্রয়োজনে জীবন-জীবিকার তাগিদে কর্মব্যস্ত থাকে। বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য শৌচাগারের সংখ্যা বিচারে অপ্রতুল। নগরগুলোতে যেসব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে সেটি রাজধানীকেন্দ্রিক। তাপরও দেখা যায়, নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার কোনো শৌচাগার নেই। ভুলে গেলে চলবে না, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন একটি মৌলিক মানবাধিকার।
স্বাস্থ্যসম্মত যথাযথ স্যানিটেশনের অভাবে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পরিবেশের মূল উপাদান মাটি, বায়ু, পানি, তাদের গুণাগুণ হারাচ্ছে। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ। যেমন : কলেরা, পোলিও, হেপাটাইটিস, চর্মরোগ, জন্ডিস, খাদ্যনালিতে সমস্যা, পেটের অসুখ, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, বদহজম, বুক জ্বালাপোড়া এমনকি ক্যানসারের মতো জটিল রোগ হচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে নগরবাসী নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছে। পয়ঃবর্জ্যরে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে পানি, বায়ুদূষিত হচ্ছে। একই সঙ্গে মানবদেহে নানা সমস্যা নগরবাসীর স্বাস্থ্য ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। জানা যায়, ঢাকা শহরের নারীরা বাইরে থাকাকালীন পানি পান করা থেকে বিরত থাকেন। কারণ, স্যানিটেশনের সুব্যবস্থার না থাকার ফলে তারা নিরাপদ পানির অভাবেই জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভুগছে পানিস্বল্পতায়। শুধু নারী নয়, এক্ষেত্রে পুরুষ, শিশু, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী চরম বিপাকে পড়ছে। এ ছাড়া যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই, সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান ভালো নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সুন্দর থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান ভালো থাকে। স্বাস্থ্যরক্ষার বিষয়টি যেসব বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল তার মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন অন্যতম। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, এ বিষয়ে সর্বস্তরে তেমন সচেতনতাও নেই।
কিন্তু এটা তো সত্য যে, স্বাস্থ্যসম্মত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আর সে জন্য প্রয়োজন সরকারের সঠিক প্রচারণা। এখানে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। স্যানিটেশন ক্যালেন্ডার মুদ্রণ, বিতরণ, চলচ্চিত্র নির্মাণ, টিভি ও রেডিওতে প্রচার করতে হবে। দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাই তাদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসুরক্ষার কথা মাথায় রেখে নারীবান্ধব স্যানিটেশন ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিষয়টি মাথায় রেখে শহরের ফুটপাতে রাস্তাঘাট, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর, লঞ্চঘাট, হাটবাজার, দোকানপাট, শপিংমল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত, পরিকল্পিতভাবে সমন্বিত প্রচেষ্টায় পর্যাপ্ত উন্নত গণশৌচাগার স্থাপন করা জরুরি। যে কারণে বিষয়টি শিশুকাল থেকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মনে রাখতে হবে ‘সুস্থ দেহ সুস্থ মন, কর্মব্যস্ত সুখী জীবন’।
লেখক : প্রভাষক ও গবেষক
