আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আট দলের আদ্যোপান্ত শক্তি আর দুর্বলতা নিয়ে সামীউর রহমানের দুই পর্বের বিশেষ আয়োজনে আজ থাকছে ‘বি’ গ্রুপের ৪ দলের বিশ্লেষণ।
এ কেমন অস্ট্রেলিয়া দল
নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, বোলিং ত্রিফলার বাকি দুই মিচেল স্টার্ক এবং জশ হ্যাজেলউড, অলরাউন্ডার মিচেল মার্শ এবং মার্কাস স্টয়নিস; কেউই নেই অস্ট্রেলিয়ার দলে! চোট, ব্যক্তিগত কারণ, অবসর; নানা কিছুর সমন্বয়ে অস্ট্রেলিয়া দল আচমকাই দুর্বল হয়ে পড়েছে, তার প্রমাণ পাকিস্তানে পা রাখার আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দুটো ম্যাচ। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া সব সময়ই দাপুটে দল, তবে আসরের নামটা যখন আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি তখন তাদের সবশেষ জয় খুঁজতেই গলদঘর্ম হওয়ার দশা। আট বছর আগে, ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও তিন ম্যাচের সবগুলোতেই হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া, তারও চার বছর আগে ২০১৩ সালের আসরেও তিন ম্যাচেই হার। ২০০৯ সালে রিকি পন্টিংয়ের সর্বজয়ী অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, এরপর অনিয়মিত হয়ে পড়া এই আসরে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররাও বোধহয় আগ্রহ খুঁজে পান না। তা না হলে ২০০৯ সালের সেই ফাইনালের পর আর কোনো ম্যাচই যে জিততে পারেনি সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী দলটি!
তবুও দলটার নাম যখন অস্ট্রেলিয়া, আর ট্রাভিস হেড, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, স্টিভেন স্মিথরা আছেন; তখন খানিকটা আশা করাই যায়। তবে বোলিংটা একদমই অনভিজ্ঞ, বিশেষ করে উপমহাদেশে খেলার অভিজ্ঞতা কম।
গ্রুপে প্রতিপক্ষ : ২২ ফেব্রুয়ারি-ইংল্যান্ড, ২৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তান
সম্ভবনা : সেমিফাইনালই চ্যালেঞ্জের
ফুরিয়ে গেছে ইংলিশ জাদু
২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ইংল্যান্ড দলটা খোলনলচে বদলে খেলল অন্য গ্রহের ক্রিকেট। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৪০০ রান করাটা তাদের কাছে ছেলেখেলা। তবে ২০২২-এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় দিয়েই যেন ফুরিয়ে গেল সেই জাদু। ২০২৩ সালে ভারতে হয়ে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ৯ ম্যাচে জিতেছিল মাত্র তিনটি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে আসার আগে ভারত সফরেও ওয়ানডে সিরিজে হয়েছে নাস্তানাবুদ। গত দুই বছরে ৩২টা ওয়ানডে খেলে ইংল্যান্ডের মাত্র ১৩ জয় আর ১৮ হার। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে একদমই দাঁত বসাতে পারেননি বোলাররা, রান দিয়েছেন দেদার। লাহোরে দুটো আর করাচিতে একটি ম্যাচ ইংল্যান্ডের, খর্ব শক্তির অস্ট্রেলিয়ার, আফগানিস্তান আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জেতাটা হবে কঠিন।
গ্রুপে প্রতিপক্ষ : ২২ ফেব্রুয়ারি-অস্ট্রেলিয়া, ২৬ ফেব্রুয়ারি-আফগানিস্তান, ১ মার্চ-দক্ষিণ আফ্রিকা
সম্ভাব্য ফল : গ্রুপ থেকেই বিদায়
হোক আফগান রূপকথা
২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে আফগানরা অল্পের জন্য পৌঁছাতে পারেনি সেমিফাইনালে। ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল। পাকিস্তানের পরিচিত কন্ডিশনে আফগানরা হয়ে উঠতে পারে আসরের ডার্ক হর্স। ইব্রাহিম জাদরান, রহমানউল্লাহ গুরবাজ, হাশমতউল্লাহ শাহিদিদের নিয়ে গড়া ব্যাটিং লাইনআপটা খারাপ নয়। আজমতউল্লাহ ওমরজাই, গুলবদিন নাইব, মোহাম্মদ নবিদের মতো অলরাউন্ডারও আছে দলে। আর আছে রহস্যে ঘেরা স্পিন বোলিং। রশিদ খান তো আছেনই, সঙ্গে নুর আহমেদও। পেস বোলিংয়ে ফজল হক ফারুকিও কার্যকর। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে আফগানরা হয়ে উঠতে পারে কঠিন প্রতিপক্ষ, বিশেষ করে গ্রুপের অন্যরা যখন উপমহাদেশের বাইরের। যার প্রমাণ গত ওয়ানডে বিশ্বকাপেই রেখেছে আফগানরা।
গ্রুপে প্রতিপক্ষ : ২১ ফেব্রুয়ারি-দক্ষিণ আফ্রিকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি-ইংল্যান্ড, ২৮ ফেব্রুয়ারি-অস্ট্রেলিয়া
সম্ভবনা : অন্তত সেমিফাইনাল
আবার কি জিতবে প্রোটিয়ারা
১৯৯৮ সালে ঢাকায় আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরুর আসরেই শিরোপা জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, এখন পর্যন্ত প্রোটিয়াদের একমাত্র বৈশ্বিক আসর জয়ের কীর্তি। বড় আসরে বরাবরই নকআউটের চাপে বিদায় নেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে এবার দারুণ সুযোগ নিজেদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটাবার। ব্যাটিংটা প্রচ- শক্তিশালী; হেনরিক ক্লাসেন, রায়ান রিকেলটন, ডেভিড মিলার, রাসি ফন ডার ডুসেনদের সঙ্গে ট্রিস্টান স্টাবস, এইডেন মার্করামরা মিলে লম্বা একটা লাইনআপ। পেস বোলার লুঙ্গি এনগিদি, কাগিসো রাবাদার সঙ্গে অলরাউন্ডার মার্কো ইয়ানসেন। স্পিনে কেশব মহারাজ আর তাবরেজ শামসি। সব মিলিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ একটা দল, আইপিএল, পিএসএল খেলার সুবাদে উপমহাদেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাও ডালভাত। শিরোপা জয়ের সব রসদই মজুদ আছে প্রোটিয়া দলে, দরকার শুধু ভাগ্যের ছোঁয়া।
গ্রুপে প্রতিপক্ষ : ২১ ফেব্রুয়ারি-আফগানিস্তান, ২৫ ফেব্রুয়ারি-অস্ট্রেলিয়া, ১ মার্চ-ইংল্যান্ড
সম্ভাব্য ফল : ফাইনালিস্ট
