বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট সরকার বা শাসনব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। গত সোমবার ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দল বা সরকার নয়, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে। আমি বিশ্বাস করি, উভয় পক্ষই তাদের স্বার্থ বোঝে ও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক থাকা উচিত।
এ সময় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনকালের বাইরেও দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা বিএনপি নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলেও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছিল। ফলে আমার মনে হয় না, সম্পর্ক নির্দিষ্ট সরকারকেন্দ্রিক হতে হবে।
সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এপ্রিলে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে বৈঠক হতে পারে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ সময় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গেও কথা বলেন তৌহিদ হোসেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালে ২৪ জন বাংলাদেশি সীমান্তে গুলিবিদ্ধ হন। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভারত প্রায়ই বলে যে সীমান্তে অপরাধ হচ্ছে, তাই গুলি চালানো হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বের অন্য কোনো সীমান্তে এভাবে নির্বিচারে মানুষকে হত্যা করা হয় না। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের দায়িত্ব। তবে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর ভারতীয় গণমাধ্যমে এ বিষয়ে অতিরঞ্জিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গও এসেছে সাক্ষাৎকারে। তৌহিদ হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারত যদি তাকে ফেরত নাও পাঠায়, তবে অন্তত তার বক্তব্যে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত, যাতে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না হয়। সেই সঙ্গে আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, চুক্তির ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালিয়ে যেতে হবে। তবে যদি কোনো অনিয়ম থাকে, আমরা তা যৌথভাবে পর্যালোচনা করতে পারি। বিদ্যুতের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এটি পুনরায় আলোচনা করা হতে পারে।
