২৭তম বিসিএসে নিয়োগবঞ্চিত ১ হাজার ১৩৬ জনকে নিয়োগ দিতে রায় দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। নিয়োগবঞ্চিতদের পক্ষে করা পৃথক তিনটি আপিল মঞ্জুর করে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ এ রায় দেয়। ওই বিসিএসে মৌখিক পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের অন্য এক বেঞ্চের রায় বহাল রেখে ২০১০ সালের ১১ জুলাই রায় দেয় আপিল বিভাগ। গতকাল আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল ঘোষণা করেন। ফলে ১৭ বছর দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে নিয়োগবঞ্চিতরা নিয়োগ পাচ্ছেন।
আদালতে আপিলকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও মো. রুহুল কুদ্দুস এবং আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া। গতকাল রায় ঘোষণার সময় নিয়োগবঞ্চিত প্রায় শতাধিক প্রার্থী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রায়ের পর তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। রায়ের পর ব্যারিস্টার সালাহ উদ্দিন দোলন সাংবাদিকদের বলেন, আপিল বিভাগের এ রায়ের ফলে প্রায় ১২০০ জনের মধ্যে জারা যোগদান করতে চাইবেন, তারা ২৭তম ব্যাচে ধারণাগত জ্যেষ্ঠতাসহ নিয়োগ পাবেন। তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টে রায়ে ৯০ দিনের মধ্যে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেই ৯০ দিন সময় বহাল করা হয়েছে।
আইনজীবীদের তথ্য মতে, ২০০৭ সালের ২১ জানুয়ারি ২৭তম বিসিএসের প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হন। তখনকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার একই বছরের ৩০ মে প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পিএসসি (সরকারি কর্মকমিশন) ওই বছরের ১ জুলাই প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করাসহ দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়। এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন প্রার্থীরা। শুনানি শেষে ২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। এর আগে একই বছরের ২৯ জুলাই দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) করে সরকারপক্ষ। ২০১০ সালের ১১ জুলাই লিভ টু আপিল পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে রায় দেয় আপিল বিভাগ।
আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন বলেন, তখন নির্বাহী বিভাগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রায় ১২০০ প্রার্থীকে বাদ দিয়েছিল। নির্বাহী বিভাগের এই বেআইনি সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্ট বৈধতা দিয়েছিল। আজ (গতকাল) এই রায়ের মাধ্যমে সেই বৈধতাকে অবৈধ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) করে হাইকোর্টের রায় বহাল করা হয়েছে। গত বছরের ৭ নভেম্বর রিভিউ মঞ্জুর করে আপিলের জন্য অনুমতি দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, এটা একটি নজিরবিহীন ঘটনা যে, প্রায় ১২০০ জন বিচার পেতে সুদীর্ঘ ১৮ বছর লড়াই চালিয়ে গেছেন।
