সরকারিতে সন্তুষ্ট ৪৭ শতাংশ বেসরকারিতে ৭৮ শতাংশ

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:০৬ এএম

দেশের সাত ধরনের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মানে ৪৭ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। সেবার মান ‘খারাপ’ বলে জানিয়েছেন ৮ শতাংশ ও ‘খুব খারাপ’ বলেছেন ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ মানুষ।

ঠিক এর বিপরীত চিত্র বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সেবার মানে সন্তুষ্ট ৭৮ শতাংশ ও এনজিও পরিচালিত হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সেবার মানে সন্তুষ্ট ৪৭ শতাংশ মানুষ। এই দুই ধরনের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সেবার মান ‘খারাপ’ বলেছেন ৩ শতাংশ ও ‘খুব খারাপ’ বলেছেন শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ মানুষ।

স্বাস্থ্য খাত সংস্কার বিষয়ক জনমত জরিপ-২০২৫-এ এই তথ্য উঠে এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের অনুরোধে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গত মাসে এই জরিপ করে। গত সপ্তাহে বিবিএসের পক্ষ থেকে জরিপের প্রাথমিক প্রতিবেদন সংস্কার কমিশনের সদস্যদের দেওয়া হয়। বিবিএস ৬৪ জেলার শহর ও গ্রামের ৮ হাজার ২৫৬টি পরিবারের ওপর জরিপ করেছে। জরিপে প্রতিটি পরিবার থেকে ১৮ বছর বা এর বেশি বয়সী একজন নারী বা পুরুষের মতামত নেওয়া হয়েছে।

জরিপে উঠে আসা এই তথ্যের ব্যাপারে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, উচ্চবিত্ত মানুষের কোথায় খুশি ও কোথায় অখুশি, নিম্নবিত্তরা কোন সেবায় খুশি ও কোন সেবায় অখুশি জরিপে এটা নির্দিষ্ট করে বলতে হবে। সেবার ধরন ভাগ ভাগ করে বিচার করতে হবে। তুলনীয় অবস্থায় জরিপের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল বিশ্লেষণ করে অবশ্যই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। চিহ্নিত সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, সরকারি ও বেসরকারি উভয় হাসপাতালেই সমস্যা আছে। একটা সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থা মিলিয়ে কাঠামো দাঁড় করাতে হবে। বেসরকারি হাসপাতালের যে দক্ষতা, সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগাতে হবে। জনগণের পকেট থেকে যেন পয়সার কারণে কেউ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। যার সক্ষমতা আছে সে খরচ করুক। যার সক্ষমতা নেই, তাকে যেন সরকার ভর্তুকি দিয়ে একটা ইকুইটি লেভেলে, অর্থাৎ যার যত সেবা দরকার, তাকে সেটা দিতে হবে এমন সমতার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা দিতে হবে। তবেই সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। একজন গরিব মানুষ যেন সরকারি হাসপাতালেই সব ধরনের সেবা পায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।   

বেশি সন্তুষ্ট মেডিকেল কলেজের সেবায়, কম জেলা সদর হাসপাতালে : বর্তমানে দেশে সরকারি সাত ধরনের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সেবার মানে মানুষ বেশি সন্তুষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্ষেত্রে। ৫৬ শতাংশ মানুষ তাদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি মান খারাপের তথ্য উঠে এসেছে জেলা সদর হাসপাতালের ব্যাপারে। ১১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, এই হাসপাতালে সেবার মান ‘খারাপ’।

এরপর সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালের চিকিৎসায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৫৩ শতাংশ, জেলা সদর হাসপাতালের ক্ষেত্রে ৪৯ শতাংশ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও কমিউনিটি ক্লিনিকের ক্ষেত্রে ৪৮ শতাংশ করে, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে ৪৩ শতাংশ ও নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ক্ষেত্রে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন।

মান ‘অমান খারাপ’ জেলা সদর হাসপাতালে : জরিপের তথ্য অনুযায়ী, এই সাত ধরনের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে বেশি সংখ্যক মানুষ জেলা সদর হাসপাতালের সেবার মান ‘খারাপ’ বলে জানিয়েছেন। এই সংখ্যা ১১ শতাংশ। এরপর ১০ শতাংশ মানুষ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৯ শতাংশ করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র,  ৮ শতাংশ করে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ৫ শতাংশ মানুষ নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মান ‘খারাপ’ বলেছেন।

গ্রামাঞ্চলের মানুষ বেশি সন্তুষ্ট সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায়। এই সংখ্যা ৫৭ শতাংশ ও চিকিৎসা খারাপের তালিকায় আছে জেলা সদর হাসপাতাল। সেখানে যাওয়া ১১ শতাংশ মানুষ বলেছেন চিকিৎসা খারাপ।

শহরাঞ্চলের মানুষও বেশি সন্তুষ্ট সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসায়। এই সংখ্যা ৫৩ শতাংশ।

কোন বিভাগে কোন হাসপাতালে বেশি সন্তুষ্টি-খারাপ : জরিপে উঠে এসেছে, সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালের চিকিৎসায় বেশি সন্তুষ্ট রংপুরের মানুষ ৬১ শতাংশ। এরপর খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের ৫৭ শতাংশ করে, সিলেটের ৫৪ শতাংশ, ময়মনসিংহের ৫১ শতাংশ, ঢাকার ৪৮ শতাংশ ও বরিশালের ৩৬ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে এই হাসপাতালের চিকিৎসায় বেশি অসন্তুষ্ট তিন বিভাগের মানুষ ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট। এই তিন বিভাগের ১১ শতাংশ করে মানুষ চিকিৎসার মান ‘খারাপ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট রংপুরের মানুষ ৬৩ শতাংশ। এরপর বরিশালের ৩৮ শতাংশ, চট্টগ্রামের ৬২ শতাংশ, ঢাকার ৪৯.৫ শতাংশ, খুলনার ৬০ শতাংশ, ময়মনসিংহের ৫৩ শতাংশ, রাজশাহীর ৬০ শতাংশ ও সিলেটের ৫৩ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্ট ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের মানুষ। এই দুই বিভাগের ১৩ শতাংশ করে মানুষ জানিয়েছেন চিকিৎসার মান খারাপ।

জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসায় বেশি সন্তুষ্ট রংপুরের মানুষ ৬০ শতাংশ। এরপর রাজশাহীর ৫৯ শতাংশ, খুলনায় ৫৬ শতাংশ, চট্টগ্রামের ৪৭ শতাংশ, সিলেটের ৪৬ শতাংশ, ঢাকার ৪৩ শতাংশ, ময়মনসিংহের ৪২ শতাংশ ও বরিশালের ৩১ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

এই হাসপাতালের ক্ষেত্রে বেশি অসন্তুষ্ট ময়মনসিংহের মানুষ ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এরপর বরিশালের ১৮ শতাংশ, ঢাকার ১৪ শতাংশ, সিলেটের ১১ শতাংশ, চট্টগ্রামের ১০ শতাংশ, খুলনার ৯ শতাংশ, রাজশাহী ও রংপুরের ৬ শতাংশ করে মানুষ মান ‘খারাপ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসায় বেশি সন্তুষ্ট রাজশাহী বিভাগের মানুষ, ৫৯ শতাংশ। এরপর রংপুরের ৫৮ শতাংশ, খুলনার ৫০ শতাংশ, চট্টগ্রামের ৪৮ শতাংশ, সিলেটের ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ, ময়মনসিংহের ৪৪ শতাংশ, ঢাকার ৪২ শতাংশ ও বরিশালের ২৮ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট।

এখানে চিকিৎসা নিয়ে বেশি অসন্তুষ্ট বরিশালের মানুষ, ১৭ শতাংশ। এরপর ময়মনসিংহের ১৬ শতাংশ, ঢাকার ও সিলেটের ১০ শতাংশ করে, চট্টগ্রামের ৯ শতাংশ, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুরের ৭ শতাংশ করে মানুষ মান ‘খারাপ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসায় বেশি সন্তুষ্ট রংপুরের মানুষ, ৫৭ শতাংশ। এরপর খুলনার ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ, রাজশাহীর ৫১ শতাংশ, সিলেটের ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ, চট্টগ্রামের ৪২ শতাংশ, ঢাকার ৩৬ শতাংশ, ময়মনসিংহের ৩২ শতাংশ ও বরিশালের ২৯ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট। এই কেন্দ্রের চিকিৎসায় বেশি অসন্তুষ্ট ময়মনসিংহের মানুষ, ১৮ শতাংশ।

কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসায় সন্তুষ্ট ৪৮ শতাংশ মানুষ ও মান ‘খারাপ’ বলে জানিয়েছেন ৮ শতাংশ মানুষ। এই ক্লিনিকের সেবায় বেশি সন্তুষ্ট রংপুরের মানুষ ৬২ শতাংশ ও বেশি অসন্তুষ্ট ময়মনসিংহের মানুষ, ১৬ শতাংশ।

নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবায় সন্তুষ্ট ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ ও মান খারাপ বলেছেন ৫ শতাংশ মানুষ। এসব কেন্দ্রের চিকিৎসাই বেশি সন্তুষ্ট রংপুরের মানুষ, ৪৩ শতাংশ ও মান খারাপের বেশি অভিযোগ এসেছে ময়মনসিংহ থেকে, ৯ শতাংশ।

বেসরকারিতে বেশি সন্তুষ্টি রংপুরে : বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসায় সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন রংপুরের মানুষ, ৮৭ শতাংশ। এরপর খুলনার ৮১ শতাংশ, রাজশাহীর ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ, সিলেট ও ময়মনসিংহের ৭৯ শতাংশ করে, চট্টগ্রামের ৭৬ শতাংশ, ঢাকার ৭৪ শতাংশ ও বরিশালের ৭০ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট।

জরুরি সেবায় সন্তুষ্টি বেশি, কম অ্যাম্বুলেন্সে : জরিপ অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে ছয় ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হলো বহির্বিভাগ বা আউটডোর সেবা, কেবিন বা ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের আন্তঃবিভাগ সেবা, জরুরি বা ইমার্জেন্সি বিভাগের সেবা, ডায়াগনস্টিক বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অন্য চিকিৎসক বা হাসপাতালে রেফারেল সেবা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা। এর মধ্যে সবচেয়ে কম সন্তুষ্টি অ্যাম্বুলেন্স সেবায়, ৩৯ শতাংশ। অন্যদিকে সর্বোচ্চ সন্তুষ্ট জরুরি বিভাগের সেবায়, ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এরপর রেফারেল সেবায় ৫৩ শতাংশ, ডায়াগনস্টিক সেবায় ৫২ শতাংশ, বহির্বিভাগের সেবায় ৫১ শতাংশ ও আন্তঃবিভাগের সেবায় ৪৬ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন।

সরকারি হাসপাতালে আন্তঃবিভাগ ও অ্যাম্বুলেন্স সেবার মান ‘খারাপ’ বলে জানিয়েছেন ১৬ শতাংশ করে মানুষ। এরপর ১৫ শতাংশ বহির্বিভাগের, ১৩ শতাংশ ডায়াগনস্টিক সেবার, ১২ শতাংশ জরুরি বিভাগের ও ১১ শতাংশ রেফারেল সেবার মান ‘খারাপ’ বলে জানিয়েছেন।

বহির্বিভাগে রাজশাহী ও আন্তঃবিভাগে রংপুরে সন্তুষ্টি বেশি : জরিপ অনুযায়ী, বহির্বিভাগের সেবায় সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট রাজশাহী বিভাগের মানুষ, ৬৪ শতাংশ। এ ছাড়া আন্তঃবিভাগ সেবায় সর্বোচ্চ রংপুরে ৫৮ শতাংশ, জরুরি বিভাগের সেবায় রাজশাহী ৬২ শতাংশ, ডায়াগনস্টিক সেবায় খুলনা ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ ও অ্যাম্বুলেন্সে রংপুরের ৫৩ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন।

এই ছয় ধরনের সরকারি সেবার মধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ অ্যাম্বুলেন্স সেবার মান। সরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন এই সেবার মান ‘খুব খারাপ’। এরপর ৬ শতাংশ আন্তঃবিভাগ, ৫ শতাংশ বহির্বিভাগ, ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ডায়াগনস্টিক সেবা, ৩ শতাংশ জরুরি বিভাগ ও ২ শতাংশ মানুষ রেফারেল সেবার মান ‘খুব খারাপ’ বলে জানিয়েছেন।

বেসরকারিতে সন্তুষ্টি বেশি আন্তঃবিভাগে : বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক এবং এনজিও পরিচালিত হাসপাতাল বা ক্লিনিকে আন্তঃবিভাগের সেবায় মানুষ বেশি সন্তুষ্ট। এই সংখ্যা ৮২ শতাংশ। এরপর বহির্বিভাগের সেবায় ৮১ শতাংশ, জরুরি বিভাগের সেবায় ৮০ শতাংশ, ডায়াগনস্টিক সেবায় ৭৯ শতাংশ, অ্যাম্বুলেন্স সেবায় ৭৩ শতাংশ ও রেফারেল সেবায় ৭০ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত