‘বড়’দের ছয়টি বৈশিষ্ট্য

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৫:০৬ এএম

বাংলা ভাষায় ‘বড়’র অনেক অর্থ আছে। এর মধ্যে একটি অর্থ হলো মহান ব্যক্তি, স্মরণীয় ব্যক্তি। যারা নিজেদের কর্মগুণে বেঁচে থাকতে অন্যের শ্রদ্ধা ও মৃত্যুর পরও পরের প্রজন্মের মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে হয়ে আছে। আরেকটি ‘বড়’র অর্থ হলো ছোট মানুষের বিপরীত অর্থে যে বড় মানুষ, সেই অর্থে বড়। অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। ছোটরা (শিশুরা) কোনো ভুল করলে ছেলেমানুষ, এখনো বোঝে না

প্রভৃতি স্নেহসূচক বাক্যের আশ্রয়ে ছাড় পেয়ে যায়, ‘বড়’রা বলেন, ‘বড়’ হলে ঠিক হয়ে যাবে। অর্থাৎ ‘বড়’ হলে আর ভুল করবে না। এই ছোট থেকে ‘বড়’ হওয়ার প্রক্রিয়া কী? বয়স হলেই বা আকৃতি হৃষ্টপুষ্ট হলেই যে কেউ ‘বড়’ হয়ে যায় না, তা নিশ্চয়ই তোমরা এতদিনে বুঝে ফেলছ? কারণ, অনেকবারই হয়তো শুনেছ, এত বয়স হলো, তবু এখন বড় হলো না! তাহলে বড় হতে হলে কী কী বৈশিষ্ট্য অর্জন করতে হবে বা বড়দের কী কী বৈশিষ্ট্য থাকে? আজ বলব সে বিষয়ে। ‘বড়’ হওয়া মানে হলো, দায়িত্ব নিতে শেখা। নিজের দায়িত্ব তো বটেই, যারা নিজের দায়িত্ব নিজে নিতে পারে না তাদের দায়িত্ব নেওয়াও ‘বড়’ হওয়ার লক্ষণ। নিশ্চয় খেয়াল করেছ, ছোটবেলায় তোমাকে যখন কারও জিম্মায় রাখা হতো তখন যদি তুমি দুষ্টুমি করতে আর তাতে যদি কারও ক্ষতি হতো তার দায় বাবা-মা দিতেন যার জিম্মায় তোমাকে রেখে গিয়েছিলেন তার ওপর। কারণ কী? কারণ হলো, তুমি তো ছোট, সে জন্যই তো আরেকজনের দায়িত্বে তোমাকে রেখে যাওয়া হয়েছিল। এই যে, আরেকজনের দায়িত্ব নেওয়া এবং সেটি ঠিকঠাক পালন করা এটি বড়দের একটি বৈশিষ্ট্য। বড়দের আরও কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। সেই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে দেখা না গেলে অন্যরা তাকে বলে, ‘ছেলেমানুষি’ করো না। অর্থাৎ সেই ব্যক্তির আচরণে পরিপক্বতা আসেনি। তাহলে পরিপক্ব আচরণ কী? নিচে কয়েকটি পরিপক্ব আচরণ বা ‘বড়’ সুলভ আচরণের কথা জানিয়ে দিচ্ছি।

অন্যকে নয়, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা

একটি পরিপক্ব আচরণ হলো, অন্যকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা। যা তোমার আয়ত্তে নেই সেটি কি তুমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে? পারবে না। অন্যে কী আচরণ বা ব্যবহার করবে সেটি তুমি যত ইচ্ছাই করো না কেন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। কিন্তু সহজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ বা পরিবর্তন করতে পারবে। এটি উপলব্ধি করা ও কাজে প্রয়োগ করা হলো পরিপক্বতার একটি নমুনা।

কারও কাছে প্রত্যাশা রেখো না

কারও কাছে কিছু প্রত্যাশা করার অর্থ হলো, নিজের প্রশান্তির চাবিকাঠি অন্যের কাছে দিয়ে দেওয়া। তার ইচ্ছার ওপর তোমার সুখ তখন নির্ভর করবে। তাই পরিপক্ব আচরণ হলো, কারও কাছ থেকে কোনো কিছু প্রত্যাশা করবে না। নিজের কাজের সব প্রস্তুতি নিজেই নেবে, তবে অন্যের ইতিবাচক কাজের প্রশংসা করবে।

নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করো, প্রক্রিয়া অনুসরণ করো

অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে না। এতে অশান্তি সৃষ্টি হয়। সফলতার জন্য নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও কখনো কখনো তাৎক্ষণিক সফলতা নাও আসতে পারে। কারণ বীজ বপন করে যতই পানি সার প্রভৃতি দেওয়া হোক না কেন, চারা অঙ্কুরোদগমের জন্য নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন। তেমনি চারা বড় হতে ও ফল ধরার জন্যও নির্দিষ্ট সময় দরকার। বেশি যতেœ এ সময় সংক্ষিপ্ত হয় না। বরং বেশি সার, পানি দিলে গাছটির ক্ষতি হতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে যে কাজটি করার কথা সেটি করে যাওয়াই পরিপক্ব আচরণ। সফলতার জন্য তাই নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে, সফলতা না অর্জিত হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যেতে হবে।

প্রতিক্রিয়া প্রকাশে সতর্ক হও

আমাদের চারপাশের জগৎ ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ফসল। কাউকে যদি প্রশংসা করো তাহলে সেও তোমার ভালো বিষয় নিয়ে কথা বলবে, কটুবাক্য বললে সেও কটুবাক্যই বলবে। আর প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে আরও বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায় মানুষ। সে জন্য যথাসম্ভব কম প্রতিক্রিয়া দেখাবে। অর্থাৎ কারও কটুকথাকে আমলে না নেওয়ার চেষ্টা করবে। আরেকটি বিষয় হলো, কোনো কাজ করাকে ক্রিয়া বলে, অর্থাৎ নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া, নতুন কোনো কাজের সূচনা করা এগুলো হলো ক্রিয়া। এর ফলে সমাজে আর দশজনে যা বলে সেটা হলো প্রতিক্রিয়া। চেষ্টা করবে প্রতিক্রিয়া না, ক্রিয়া সৃষ্টিতে। এটিই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি।

সব কথা সবাইকে নয়

কোনো মানুষ যদি কারও ক্ষতি করতে চায় তাহলে তাকে জানতে হয় ওই মানুষটি সম্পর্কে। তার আত্মীয়-স্বজন, ঠিকানা, পরিচয়, ভালো-মন্দ অভ্যাস, সবকিছু। মানুষ কখন যে বন্ধু থেকে শত্রু হয়ে যায় সেটির কোনো ঠিক নেই। সে জন্য সব কথা সবাইকে বলবে না, বিশেষ করে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক গোপনীয় বিষয়ে অন্যকে বলবে না।

বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক হও

জীবনে বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক হতে হবে। কারণ আমরা বন্ধুদের দ্বারাই বেশি প্রভাবিত হই। আমরা ক্রমেই বন্ধুদের মতোই হয়ে উঠি। তাই কাউকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণের আগে দেখতে হবে তার বন্ধুরা কেমন, স্বভাবে কোনো ত্রুটি আছে কি না। সবদিক ভালো মনে হলেই তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত