আল্লাহর কাছে বান্দার আমল পৌঁছানোর সময়

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৫, ০৫:৪৯ এএম

ইসলামে আমলের গুরুত্ব অনেক। ইমানের পর আমলই মানুষের সফলতা ও পরকালীন মুক্তির প্রধান মাধ্যম। তিনটি সময়ে মানুষের আমল বিশেষভাবে আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। এই সময়গুলো জানা থাকলে নেক আমল আরও আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করা যায়। সেই সময়গুলো উল্লেখ করা হলো।

দৈনিক আমল পৌঁছানোর সময় : রাতের আগে দিনের আমল এবং দিনের আগে রাতের আমল মহান আল্লাহর কাছে উপস্থাপন করা হয়। হজরত আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের সামনে পাঁচটি কথা বললেন। এক. আল্লাহ কখনো নিদ্রা যান না। দুই. নিদ্রিত হওয়া তার সাজেও না। তিন. তিনি তার ইচ্ছানুসারে তুলাদণ্ড নামান এবং উত্তোলন করেন। চার. দিনের আগেই রাতের সব আমল তার কাছে উত্থাপন করা হয় এবং রাতের আগেই দিনের সব আমল তার কাছে উত্থাপন করা হয়। পাঁচ. তার পর্দা হলো নুর বা জ্যোতি। (সহিহ মুসলিম ৩৪২)

সাপ্তাহিক আমল পৌঁছানোর সময় : মানুষের আমল প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার মহান আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত এই দিনের রোজাগুলো রাখতেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার আমল পেশ করা হয়। সুতরাং আমি এটা ভালোবাসি যে, রোজাদার অবস্থায় যেন আমার আমলসমূহ পেশ করা হয়। (তিরমিজি ৭৪৭)

বার্ষিক আমল পৌঁছানোর সময় : কেয়ামতের দিন সর্বশেষ মহান আল্লাহর কাছে বান্দাদের আমলনামা পেশ করা হবে। কিন্তু দুনিয়ায় বাৎসরিক পেশ করা হয় শাবান মাসে। উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনাকে শাবান মাসে যে পরিমাণ রোজা পালন করতে দেখি বছরের অন্য কোনো মাসে সেই পরিমাণ রোজা পালন করতে দেখি না। তিনি বললেন শাবান মাস রজব ও রমজানের মধ্যবর্তী এমন একটি মাস যে মাসের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষ খবর রাখে না। অথচ এ মাসে আমলনামা মহান আল্লাহর কাছে উত্তোলন করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, আমার আমলনামা মহান আল্লাহর কাছে উত্তোলন করা হবে আমার রোজা পালনরত অবস্থায়। (নাসায়ি ২৩৫৭)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত