বিমানের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৫, ০৭:৪৩ এএম

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ‘কমার্শিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে গতকাল শনিবার বিকেল ৩টায়  রাজধানীর লালমাটিয়া গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের সামনে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। ফলে এই দুই কলেজের পরীক্ষা বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, একদল মানুষ উসকানি দিয়ে প্রশ্ন বহনকারী গাড়ি আটকে দেয় ও প্রশ্নফাঁসের গুজব রটায়। তাই ওই দুই কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলেও জানানো হয়।

চাকরিপ্রত্যাশীরা অভিযোগ করে বলেন, ২০২৩ সালে কমার্শিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে (১০০ জন) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। তবে ২০২৪ সালে চাকরিপ্রার্থীদের বয়স ৩২ বছর করে সরকার। সে কারণে চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই পদে পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিমান। এই নিয়োগের পরীক্ষা শনিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিকেল ৩টা ১০ মিনিট বাজলেও লালমাটিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রের চাকরিপ্রত্যাশীরা (প্রায় দুই হাজার) প্রশ্নপত্র পাননি। এর মধ্যে প্রশ্নফাঁস হয়েছে বলে জানতে পারেন তারা। এ নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বাগ্বিত-ায় জড়ান তারা। পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে তারা কলেজের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন। পরে আবার কলেজের ভেতর গিয়ে বিক্ষোভ করেন।

সবুজ সরকার নামে এক পরীক্ষার্থী বলেন, এই নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বিমান আইবিএকে দায়িত্ব দিয়েছিল। কিন্তু কীভাবে এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হলো, তার উত্তর দিতে পারছেন না আইবিএ-এর সংশ্লিষ্টরা। আবার বিমানের কোনো প্রতিনিধিও কলেজে আসেননি।

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস গতকাল সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, শনিবার বিকেলে বিমানের কমার্শিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএকে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষা কেন্দ্র এবং খাতা মূল্যায়ন সবকিছুর দায়িত্ব তাদের।

পরীক্ষায় মোট ১৫টি কেন্দ্রে সর্বমোট ৩১ হাজার ৯১৭ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন। পরীক্ষা শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল বেলা ৩টা। সব কেন্দ্রে পরীক্ষা হলেও ২টি কেন্দ্রে (লালমাটিয়ার গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং লালমাটিয়ার সরকারি মহিলা কলেজ) জন্য প্রশ্ন বহনকারী গাড়ি রাস্তায় ভয়াবহ যানজটের কারণে পরীক্ষা শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময়ের ২২মিনিট পরে পৌঁছে। তখন ওই দুই কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একদল মানুষ কোনো ধরনের উসকানি ছাড়া প্রশ্ন বহনকারী গাড়িগুলোকে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে না দিয়ে আটকে রাখে। তারা প্রশ্নফাঁসের প্রোপাগান্ডা ছড়াতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে ওই দুই কেন্দ্র ছাড়া অন্যান্য ১৩টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস থেকে আইবিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, তাদের প্রশ্ন বহনকারী গাড়িগুলো একদল লোক আটকে রাখে বেআইনিভাবে এবং প্রশ্নফাঁসের গুজব রটায়, ফলে তাদের পক্ষে ওই দুই কেন্দ্রের পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তারা এ বিষয়ে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।

ওই দুইটি পরীক্ষা কেন্দ্রের বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে অবহিত করবে বলেও জানায় আইবিএ।

বিমানের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ মনে করে একটি মহল বিশেষ উদ্দেশ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার জন্য ওই দুটি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশ্ন বহনকারী গাড়িগুলোকে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং প্রশ্নফাঁসের প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত