মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনের তিন কিলোমিটার এলাকায় নেই কোনো সড়ক বাতি। এতে জেলার সিরাজদীখান উপজেলার এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনে সন্ধ্যার পরই নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। ওই সময় টহল দিতে দেখা যায় না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। ফলে বাতির অভাবে যানবাহন চলাচলে চালকদের অসুবিধার পাশাপাশি নিয়মিত ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের কবলে পড়ছেন যাত্রী ও পথচারীরা।
স্থানীয়রা জানান, সড়ক বাতি না থাকায় রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের ধলেশ^রী সেতুর টোল প্লাজা থেকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া ফ্লাইওভার এবং এর দক্ষিণ প্রান্ত থেকে উপজেলার নিমতলা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনে অন্ধকার নেমে আসে। এতে প্রতিনিয়ত ওই লেনের কুচিয়ামোড়া আন্ডারপাসের নিচে ও নিমতলা কলাবাগানসহ আশপাশে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। তবে ছিনতাই-ডাকাতির শিকার যাত্রী বা পথচারীদের বেশিরভাগই অভিযোগ দিতে থানা পুুলিশের মুখোমুখি হন না। এদিকে হাইওয়ে ও থানা পুলিশের টহল ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই রাতে সার্ভিস লেনে ছিনতাই-ডাকাতি বাড়ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তারা বলছেন, রাতে পুলিশ টিমকে খুব একটা টহল দিতে দেখা যায় না।
সম্প্রতি সিরাজদীখান থানায় করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর উপজেলার কুচিয়ামোড়া এলাকায় র্যাবের পোশাক পরা একদল ডাকাত মিনিবাস থেকে নামিয়ে ব্যবসায়ী তালুকদার লালনের (৪৫) কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা লুটে নেয়। ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ী ঢাকার বঙ্গবাজারে গার্মেন্টস ব্যবসা করেন। তার বাড়ি জেলার শ্রীনগর উপজেলার তন্তরে। একই বছরের ৩ ডিসেম্বর উপজেলার নিমতলা যাত্রী ছাউনির সামনে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মোহাম্মদ হোসেন (৫৩) নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা লুটে নেয় ডাকতরা। ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতরা ওই ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে টাকা লুটে চম্পট দেয়।
উপজেলার বড় শিকারপুর গ্রামের ইকবাল মোল্লা বলেন, ‘এ সার্ভিস লেনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়েও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। যাত্রীবাহী বাস, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাত্রীরা ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছেন। যাত্রীবেশে ডাকাতি ও ছিনতাই করতেও সক্রিয় রয়েছে একটি বিশেষ চক্র।’
পিকআপ ভ্যানচালক মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘কিছুদিন আগে রাতের বেলায় ধলেশ^রী সেতুর টোল প্লাজা পেরিয়ে আসতেই আমি ডাকাত দলের ব্যারিকেডের মুখে পড়ি। তবে আমি অল্পতে ওই যাত্রায় ডাকাতদের হাত থেকে রেহাই পেলেও অন্যান্য যানবাহনের যাত্রীরা রক্ষা পাননি। বাতি না থাকায় রাতে সার্ভিস লেনে সক্রিয় হয়ে ওঠে ডাকাত-ছিনতাইকারীরা।’
হাষাড়া হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, ‘আমি তিন মাস ধরে এখানে এসেছি। এর মধ্যে তিন-চারটি ডাকাতি-ছিনতাইয়ের খবর আমি জানতে পেরেছি। ওই ঘটনাগুলোতে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ হওয়ার কথা। কাজেই থানা পুলিশ ভালো বলতে পারবে। তবে রাতভর ঢাকার বাবুবাজার সেতু থেকে সিরাজদীখানের নিমতলা পর্যন্ত আমাদের একটি টিম সার্বক্ষণিক টহল দিয়ে থাকে। এ সার্ভিস লেনে বাতি সংযোজন করা দরকার। তাহলে ডাকাতি-ছিনতাই কমে আসবে।’
সিরাজদীখান থানার ওসি শাহেদ আল-মামুন বলেন, ‘ধলেশ্বরী টোল প্লাজা থেকে নিমতলা পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে বাতি নেই। তাই মাঝেমধ্যেই ওই এলাকায় ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বড় ধরনের ঘটনা হলে থানায় মামলা বা অভিযোগ হয়। এ ছাড়া ছোটখাটো অনেক কিছুতেই মামলা বা অভিযোগ হয় না। তবে বাতি স্থাপন করলে রাতের বেলায় ছিনতাই-ডাকাতি অনেকটাই কমে যাবে।’
