ইফতার মাহফিলে তারেক

একই দিনে বিশ্ব জুড়ে রোজা-ঈদ চিন্তা করতে পারি কি না

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৫, ০৬:৫৮ এএম

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘একজন মুসলমান হিসেবে একটি প্রশ্নই আমার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। খ্রিস্টান সম্প্রদায় সারা বিশ্বে তাদের বড়দিন একই দিনে একসঙ্গে পালন করে। ওলামা-মাশায়েখদের অনুরোধ করব, দেশে আরও যারা আছেন, সবাই মিলে চিন্তা করে দেখতে পারি কি না যে, বাংলাদেশের মানুষ সারা বিশ্বের সঙ্গে একই দিনে রোজা এবং একই দিনে ঈদ পালন করতে পারি কি না। বিজ্ঞানের যুগে এমন সামঞ্জস্য বিধান সম্ভব কি না, কোনো উপায় বের করা যায় কি না, এ বিষয়টি চিন্তা করে দেখার অনুরোধ করব।’

গতকাল রবিবার রাজধানীর ইস্কাটন লেডিস ক্লাবে পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনে ওলামা মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। বিএনপি আয়োজিত এ মাহফিলে ফার্মগেট ইসলামী মিশন মাদ্রাসা ও শান্তিনগর বাজার জাতীয় মুসলিম মাদ্রাসার ৭০ থেকে ৮০ এতিম শিশু ও ছাত্রছাত্রী অংশ নেয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘রমজান আমাদের শেখায় সংযমী হতে। কীভাবে ধৈর্যশীল হতে হবে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। রমজান আমাদের সে শিক্ষা দেয়।’ তিনি বলেন, ‘একটি আয়াত শুনছিলাম যেখানে বলা হচ্ছে আমাদের আশপাশে আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী যারা আছে, তাদের সৎকাজে উৎসাহিত করা, অসৎকাজে নিরুৎসাহিত করতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব, এটি করা যদি সম্ভব হয়, তাহলে আমাদের যে প্রত্যাশিত সমাজ দেশ তা ধীরে-ধীরে আমরা গড়ে তুলতে সমর্থ হবে। আসুন রমজানের প্রথম দিনে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে নিজেদের বাবা-মা, এখানে যে এতিম বন্ধুরা এসেছেন, যারা তাদের আপনজন হারিয়েছেন, তাদের জন্য হাত তুলে আমরা দোয়া করি। আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা, এই মাতৃভূমির প্রতি আল্লাহ যেন রহমত দেন, প্রতিটি মানুষ যেন শান্তিতে থাকতে পারে।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে কিছু লোক ওলামা-মাশায়েখদের বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এই বিভেদ দিয়ে শুধু বিএনপিকে ধ্বংস নয়, একটি ফাটল সৃষ্টি করে দেশকে ধ্বংস করবে। যার সুযোগ নেবে বিদেশি অপশক্তি।’

তিনি বলেন, ‘সেকেন্ড রিপাবলিক কী, আমি বুঝিনি। অর্থাৎ একটা অসিলা করে জাতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। আপনাদের মতো দেখতে (ওলামাদের মতো) কিছু লোক আগুনে বাতাস দিতে চেষ্টা করছে।’

ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল প্রমুখ। ওলামা-মাশায়েখদের মধ্যে ছিলেন সুবহানবাগ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ মসজিদের খতিব মুফতি মহিউদ্দিন, জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আবু হোরায়রা প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত