বগুড়া

হাজতখানায় স্বজনদের সঙ্গে আসামির খোশগল্প, গ্রেপ্তার ৫

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৫, ০১:২৩ এএম

বগুড়ায় নারী হাজতখানায় পুলিশের সহায়তায় স্ত্রীসহ আত্মীয়দের সঙ্গে ১৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত তুফান সরকারের আলাপচারিতার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই আদালত চত্বরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

সোমবার দুপুরে বগুড়ার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দোতলায় নারী হাজতখানায় এ ঘটনা ঘটে। তুফান সরকার বগুড়া শহরের চকসুত্রাপুর এলাকার মজিবর সরকারের ছেলে এবং হত্যা, মাদক, ধর্ষণ, ছিনতাইসহ ১৭ মামলার আসামি।

এদিকে তুফান সরকারকে সহায়তা করা নারী হাজতখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এটিএসআই জয়নাল আবেদীনকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হানকে।

এ ঘটনায় তুফান সরকারের স্ত্রী আইরিন আক্তার (২০), শ্বাশুড়ি তাসলিমা আক্তার (৪৫), শ্যালক নয়ন আকন্দ আশিক (২৫), স্ত্রীর বড় বোন আশা (২৩) ও আইনজীবী সহকারী হারুনার রশিদকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আদালত ও জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ আদালতের একটি মামলায় সোমবার হাজিরা দিতে আদালতে নেওয়া হয় অন্য মামলায় কারাগারে থাকা তুফান সরকারকে। হাজিরা শেষে তাকে আদালতের নারী হাজতখানায় রেখে দেওয়া হয়। ওই সময় নারী হাজতখানায় তুফান সরকারের স্ত্রী আইরিন আক্তার, শাশুড়ি তাসলিমা খাতুন, শ্যালক নয়ন, স্ত্রীর বড় বোন আশা ও আইনজীবী সহকারী হারুনার রশিদ ছিলেন। তারা ভেতরে থাকা অবস্থায় বিষয়টি জানাজানি হলে আদালত চত্বরে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান জানান, আদালতের নারী হাজতখানায় নারীদের সঙ্গে একটি মামলার আসামি তুফানকে রাখা হয়েছিল। এখানে আইনত অপরাধ হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার জন্য নারী হাজতের দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা এটিএসআই জয়নাল আবেদীনকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে। সেইসঙ্গে পুলিশ সুপারের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একইসঙ্গে ওই সময় নারী হাজতখানায় তুফান সরকারের স্ত্রী আইরিন আক্তার, তার শাশুড়ি তাসলিমা খাতুন, শ্যালক নয়ন আকন্দ ওরফে আশিক, তুফানের স্ত্রীর বড় বোন আশা ও আদালতের আইনজীবী সহকারী হারুনার রশিদকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

বগুড়ার কোর্ট ইন্সপেক্টর মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, সকালে তুফান সরকারকে বিদ্যুৎ আদালতে হাজিরার জন্য কারাগার থেকে আনা হয়। তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে নারী হাজতখানায় পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করার সুযোগ করে দেয় জয়নাল আবেদিন। যা আদালতের সবার অগোচরে ঘটনাটি ঘটে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা সাংবাদিকদের বলেন, পুরুষ আসামিকে নারী হাজতখানায় পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে এটিএসআই জয়নাল আবেদিনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশের আরও যাদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে এক কলেজছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে তুফান সরকার। পরে শালিস ডেকে ভুক্তভোগী ও তার মাকে চরিত্রহীনা উল্লেখ করে তাদের মারধর করে এবং মা-মেয়ের মাথা ন্যাড়া করে দেয় তুফান সরকার ও তার সহযোগীরা। সেই ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হলে তুফান সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় গত অক্টোবর মাসে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে কলেজছাত্রী ধর্ষণ এবং ওই ছাত্রী ও তার মায়ের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার মামলায় পাঁচ বছরের বেশি সময় জেল খেটে জামিনে বের হয় তুফান সরকার। তুফান সরকার বগুড়া শহর যুব শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। দুর্নীতির মামলায় ১৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি তুফান সরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত