কোথায় হাঁটবেন ঘরে না বাইরে

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৫, ০৬:৪১ এএম

শরীর সুস্থ রাখতে হাঁটতে হবে। এটা হলো প্রধান কথা। এখন অনেকের মনে প্রশ্ন আসে, কোথায় হাঁটলে উপকার বেশি ঘরের মধ্যে ট্রেডমিলে না খোলা হাওয়ায়। গবেষণায় প্রমাণিত প্রকৃতির মধ্যে আধা ঘণ্টা হাঁটলেও, শরীরের উপকার হয়। তবে যদি একান্তই সুযোগ না থাকে, তাহলে ঘরের ভেতরে হাঁটাও ভালো। গবেষণা বলছে, ঘরের ভেতরে ৩০ মিনিট হাঁটলে যা উপকার হবে তার দ্বিগুণ উপকার হবে বাইরে গিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করলে।

প্রকৃতির মধ্যে শরীরচর্চা করলে বা হাঁটলে ‘হ্যাপি’ হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে, যা শরীরের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যও ভালো রাখে।

প্রকৃতির মাঝে যত থাকা যাবে ও প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যাবে, শব্দ শোনা যাবে, ততই মানসিক চাপ, উদ্বেগ কমবে। বৃষ্টির শব্দ, পাখির ডাক, গাছপালার শব্দ শুনলে মানসিক ক্লান্তি অনেক কেটে যায়। দুশ্চিন্তা, নেতিবাচক চিন্তাভাবনা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। মনের চাপ কমলেই ভালো লাগার অনুভূতি হবে। অনিদ্রাজনিত সমস্যা, অবসাদ থেকেও রেহাই পাওয়া যাবে।

বাইরে হাঁটারও নিয়ম আছে। নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলুন পদক্ষেপ। শ্বাস নেওয়ার সময় ৪ পা ফেলুন, শ্বাস ছাড়ার সময় আরও ৪ পা। ধীরে ধীরে শ্বাস-প্রশ্বাসের লয় কমলে প্রতি শ্বাসে পদক্ষেপের সংখ্যা বাড়ান। এই প্রক্রিয়ায় শারীরিক কসরতও হবে, মনঃসংযোগও বাড়বে। হনহনিয়ে হাঁটা নয়, চারপাশ দেখুন। প্রাতর্ভ্রমণ করলে গায়ে-মুখে রোদের স্পর্শের অনুভূতি নিন। এতে একঘেয়েমিও কেটে যাবে।

বাইরে হাঁটার সুফল বেশি হলেও ঘরের ভেতরে হাঁটার যেকোনো উপকারিতাই নেই, তা নয়। যারা বয়সের কারণে বাইরে হাঁটতে পারছেন না অথবা যাদের শারীরিক কোনো সমস্যা রয়েছে, তারা ঘরের ভেতরেই হাঁটতে পারেন। দিনে যদি গুনে গুনে ১০ হাজার পা হাঁটা যায়, তাহলে ওজন তো কমবেই, হার্টও ভালো থাকবে। সে ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মানলে ভালো। যেমন এ ঘর থেকে ও ঘর একটু জোরে হাঁটাহাঁটি করলেই দেখা যাবে, ঘাম ঝরছে। সকালে নাশতার মিনিট দশেক পরে হাঁটুন। দুপুরের বা রাতের খাবার খেয়ে ছাদে বা লনে হাঁটতে পারেন। একঘেয়েমি কাটাতে, ঘরের ভেতরেই জুম্বা ব্যায়াম করতে পারেন। এতে হার্ট ভালো থাকবে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ঘরের কাজ করতে করতেও হাঁটা যায়, টিভি দেখার সময়ে সোফায় না বসে বরং হাঁটাহাঁটি করলেও লাভ হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত