গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি পর্যালোচনা এবং বাংলাদেশ ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) ৮৬তম বৈঠকে যোগ দিতে গত সোমবার কলকাতায় গিয়েছে বাংলাদেশের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। প্রথম দিনই দলটি সেখান থেকে হাওড়া রেলস্টেশন, এরপর ট্রেনে চড়ে পৌঁছায় মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কায়। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন ভারতের নদী কমিশনের সদস্যরাও। সন্ধ্যায় নিউ ফারাক্কা স্টেশনে পৌঁছালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলটিকে স্বাগত জানান ফারাক্কা বাঁধের জেনারেল ম্যানেজার আরডি দেশপাণ্ডে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে ব্যারাজ পরিদর্শন করেন প্রতিবেশী দেশের নদী বিশেষজ্ঞরা। গঙ্গা থেকে পদ্মায় প্রবাহিত পানির পরিমাণ এবং অবস্থা খতিয়ে দেখেন তারা। গঙ্গা থেকে পানি কী প্রক্রিয়ায় পদ্মায় প্রবাহিত হচ্ছে, তা-ও সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে দলটি। পরে তারা যৌথভাবে ফারাক্কা পরিদর্শন করেন।
ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ আবুল হোসেনের বরাত দিয়ে বলা হয়, তিনি বলেছেন, সম্প্রতি ফারাক্কায় নাব্য কমে গেছে। গত জানুয়ারি মাসে ঠিক ছিল, কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে কিছুটা কমে গেছে। তিনি বলেন, এভাবে পানি কমে যাওয়া স্বাভাবিক। কোনো বছর পানি কম থাকবে, আবার কোনো বছর বেশি থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে আবুল হোসেন বলেন, পানিবণ্টন চুক্তি বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করবে বিশেষ কমিটি। তিনি আরও বলেন, এখানে পরিদর্শনের পর কলকাতায় রুটিন বৈঠক হবে।
জানা গেছে, আগামীকাল ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের ৮৬তম বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা গঙ্গা-পদ্মার পানিবণ্টন ছাড়াও তিস্তাসহ ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদীর বিষয়ে আলোচনা করবেন। পরের দিন অর্থাৎ শুক্রবার কলকাতায় একটি কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক হবে বলেও জানা গেছে। ৮ মার্চ কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা রওনা দেবেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রবাহিত গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়া এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতিবসু ও বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চুক্তিতে সই করেন। ২০২৬ সালে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তার আগে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের এই পরিদর্শন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
