গণপ্রজাতান্ত্রিক কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় শহর গোমার দুটি হাসপাতাল থেকে ১৩১ জন রোগীকে অপহরণ করেছে প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডার সমর্থনপুষ্ট বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম ২৩-এর যোদ্ধারা। সোমবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা ইউএনসিএইচআরের মুখপাত্র রাভিনা শ্যামদাসানি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি গোমার এনডোশো এবং হিল আফ্রিকা নামের দুটি হাসপাতালে হামলা চালায় এম-২৩ যোদ্ধারা। এর মধ্যে এনডোশো থেকে ১১৬ জন এবং হিল আফ্রিকা থেকে ১৫ জন রোগীকে অপহরণ করে নিয়ে যায় তারা। অপহৃতরা কেউ কঙ্গোর সেনাবাহিনীর সদস্য, কেউ বা সরকারপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী ওয়াজেলেনদোর সদস্য। তারা সবাই যুদ্ধে আহত হয়ে এ দুটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
সোমবারের বিবৃতিতে বিদ্রোহীদের প্রতি অপহৃত রোগীদের ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান জাতিসংঘের এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে শয্যা থেকে চিকিৎসাধীন রোগীদের অপহরণ এবং তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় গোপন স্থানে রাখা খুবই পীড়াদায়ক একটি ঘটনা। আমরা সব রোগীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য এম-২৩ বিদ্রোহীদের অনুরোধ করছি।
এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া চেয়ে এম-২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মুখপাত্র উইলি এনগোমা এবং লরেন্স ক্যানিউকার সঙ্গে রয়টার্স যোগাযোগ করলেও, তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। কঙ্গোর এই অঞ্চলটি খনিজ ও বনজ সম্পদে সমৃদ্ধ। গত জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চল দখলের অভিযানে নামে এম-২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে পূর্ব কঙ্গোর প্রধান শহর গোমার নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে অঞ্চলটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বুকাভুর দখল নেয় এম-২৩ যোদ্ধারা। এ অঞ্চলটি স্বর্ণ ও কোল্টানে সমৃদ্ধ, যা ল্যাপটপ ও স্মার্টফোনের মতো ইলেকট্রনিক্সে ব্যবহৃত ক্যাপাসিটর উৎপাদনের একটি মূল উপাদান। চলতি বছরের শুরু থেকেই এম-২৩ বিদ্রোহীরা পূর্ব কঙ্গো জুড়ে আক্রমণ চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো দখল করেছে। এ সময় তারা প্রায় তিন হাজার মানুষকে হত্যা করেছে।
