স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত ৮ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৫, ০২:২৩ এএম

গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার জন্য আট বিশিষ্টজনকে বিবেচনা করছে সরকার। মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের জন্য ইতিমধ্যে মনোনীতদের তালিকা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অনুমোদন করেছেন বলে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় এই পদকের জন্য মনোনীতদের তালিকার প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত বিশিষ্টজনদের মধ্যে যাদের নাম শোনা গেছে তারা হলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী, বিজ্ঞানী অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম, ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ, গবেষক লেখক ও বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর, কবি আল মাহমুদ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অন্যতম নকশাকার নভেরা আহমেদ, পপসম্রাট আজম খান ও আবরার ফাহাদ।

আবরার ফাহাদ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৯ সালের অক্টোবরে বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে তিনি নিহত হন।

স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে।

স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রাম সোনার পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়। গত বছর (২০২৪) ১০ জনকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।

গত ২ মার্চ স্বাধীনতা পুরস্কার দিতে জাতীয় পুরস্কার-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা হয়। সভা শেষে কমিটির সভাপতি ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘এবার আমরা একুশে পদক যেভাবে দিয়েছি, আমরা একবারই সম্ভবত এ পুরস্কারগুলো দিতে পারব। কিন্তু দেখেই যেন মনে হয়, এ পুরস্কারগুলো অনন্যধর্মী, অন্য বছর এ ধরনের পুরস্কার দেওয়া হয় না। পরেও দেওয়া হবে কি না, আমি জানি না।’

কমিটির সদস্য ও আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছিলেন, ‘এ পুরস্কারের (স্বাধীনতা পুরস্কার) মহিমা উপলব্ধি করে দল ও গোষ্ঠীগত চিন্তার ঊর্ধ্বে থেকে স্যারের (ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ) নেতৃত্বে আমরা এমন সব নাম সুপারিশ করেছি, আপনারা একুশে পদক দেখে খুশি হয়েছিলেন, এ পুরস্কার দেখে আরও খুশি হবেন। মনে হবে পুরস্কার দিতে পেরে আমরা নিজেরা ধন্য হচ্ছি।’

স্বাধীনতা পদকের তালিকায় আবরার ফাহাদের নাম নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে, কেন তাকে স্বাধীনতা পদক দেওয়া হবে? এই প্রশ্নের জবাবে মুখ খুলেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী।

গত ৩ মার্চ এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, এবারের স্বাধীনতা পদক একুশে পদকের মতোই অনন্য হবে। আবরার ফাহাদের কথাটা যেভাবেই হোক, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক সাংবাদিক ভাইবোন এর সত্যতা জানতে চেয়েছেন। তাদের সবার জন্য উত্তর : একটু অপেক্ষা করেন, পুরো তালিকাই জানতে পারবেন। অসাধারণ সব নাম দেখতে পাবেন।

এবার আসি এই পোস্ট লেখার আসল কারণে। আবরার ফাহাদের নাম সামনে আসায় সব স্তরের মানুষের উচ্ছ্বসিত প্রশংসার পাশাপাশি একটা নির্দিষ্ট দলের লোকদের অবুঝ প্রশ্ন দেখতে পাচ্ছি, ‘আবরার ফাহাদকে স্বাধীনতা পদক কী বিবেচনায় দেওয়া হবে?’

আবরার ফাহাদকে সার্বভৌমত্বের ভ্যানগার্ড আখ্যা দিয়ে ফারুকী বলেন, কী বিবেচনায় দেওয়া উচিত সেটা ব্যাখ্যা না করে আমি বলতে চাই, কোন ক্যাটাগরিতে দেওয়া উচিত। তাহলেই কেন দেওয়া উচিতের উত্তর পাওয়া যাবে। আমার একান্ত ব্যক্তিগত বিবেচনা, আবরার ফাহাদের ক্যাটাগরি হওয়া উচিত ‘মুক্তিযুদ্ধ’! মুক্তিযুদ্ধের ফল স্বাধীনতা। স্বাধীনতার প্রধান শর্ত সার্বভৌমত্ব। আর সার্বভৌমত্বের ভ্যানগার্ড আবরার ফাহাদ।

আবরার ফাহাদ একটা সিম্বল, তার শক্তি যদি আপনি অনুমান না করতে পারেন, তাহলে বলব জুলাইতে ফিরে যান। গিয়ে তরুণ বক্ষে কান পাতেন। যার নিশ্বাস শুনবেন তার নামই আবরার ফাহাদ।

পুরস্কার নেবেন না বদরুদ্দীন উমর : স্বাধীনতা পুরস্কার না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন লেখক ও বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭৩ সাল থেকে আমাকে বিভিন্ন সরকারি ও  বেসরকারি সংস্থা থেকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তবে আমি  সেগুলোর কোনোটিই গ্রহণ করিনি। বর্তমান অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকার আমাকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছে, এ জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু তাদের দেওয়া এই পুরস্কারও গ্রহণ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

বদরুদ্দীন উমরের এই অবস্থানের পেছনে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক   কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। তবে তিনি বরাবরই বিভিন্ন পুরস্কার গ্রহণ করা থেকে বিরত থেকেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত