মুখের গন্ধ নিয়ে অনেকেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। সামাজিকভাবে অস্বস্তিকর এই অবস্থা নিজের ব্যক্তিত্বকে হেয় করে, পাশাপাশি নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে।
কারণ
মুখ পরিষ্কারে উদাসীনতা : অনেকেই রাতে খাওয়ার পর মুখ পরিষ্কার করে না, দাঁত ও মুখ পরিষ্কারের সঠিক নিয়ম মানে না, ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করতে পারে না। মুখে গন্ধের প্রধান কারণ হচ্ছে এটি। খাদ্যকণা দাঁতের ফাঁকে কোথাও আটকে থাকলে জীবাণুরা সেগুলো ভেঙে সালফার নামক দুর্গন্ধ পদার্থ তৈরি করে। অপরিষ্কার মুখে নানা ধরনের রোগ হতে পারে আর সেখান থেকে গন্ধও হতে পারে।
ধূমপান ও মদ পান : ধূমপায়ীদের মুখে বাজে গন্ধ খুবই স্বাভাবিক।
খাদ্যের রকমভেদ : বিশেষ কিছু খাবার গ্রহণে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। যেমন পেঁয়াজ বা রসুন হজমের পর রক্তে এসে ফুসফুসে চলে আসে আর সেখান থেকে নিঃশ্বাসে গন্ধ আসে।
শুষ্ক মুখ : কারণ যা-ই হোক, মুখে লালা প্রবাহ স্বাভাবিক না হলে মুখে দুর্গন্ধ হবেই। লালা মুখকে পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি জীবাণুদের প্রতিহত করে; মাড়ি রোগ ও ডেন্টাল ক্যারিজ হওয়ার প্রবণতা কমে যায়, দুর্গন্ধের তৈরি হয়।
শর্করা কম খেলে : রোজা রাখা অবস্থায় বা ডায়েটিংয়ে থাকলে কার্বহাইড্রেট বা ভাত জাতীয় খাবার কম খাওয়ার কারণে শরীরের চাহিদা মেটাতে চর্বি ভাঙা শুরু করে কিটোন নামক রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়, মুখে গন্ধ হতে পারে। কম পানীয় পান করার জন্য মুখ শুষ্ক হলেও গন্ধ হতে পারে।
ওষুধের পাশর্^প্রতিক্রিয়া : এনজাইনা, কিছু কেমোথেরাপি, কিছু ট্র্যানকুইলাইজার যেমন ফেনোথিয়াজাইনসের পাশাপাশি যেসব ওষুধ মুখে লালা নিঃস্বরণ কমায় সেখান থেকে মুখে গন্ধ হতে পারে।
অন্যান্য রোগ থেকে : নাক কান গলার রোগ থেকে যেমন টনসিলের প্রদাহ, সাইনাসে সংক্রমণ, লিভারের রোগ, হজমে সমস্যাসহ পাকস্থলীর অ্যাসিডগুলোর নিয়মিত রিফ্লাক্সের কারণে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হতে পারে। শ্বাসনালির বা ফুসফুসের সংক্রমণ থেকেও দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থেকেও কিটোঅ্যাসিডোসিস হয়ে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। মুখের দুর্গন্ধ এড়াতে মুখগহ্বর পরিষ্কার রাখার সঠিক নিয়ম জানা ও তার নিয়মিত অনুশীলন করা। সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ, ফ্লস ব্যবহার ও মাউথওয়াশ ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। অন্যান্য শারীরিক সমস্যা থেকে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ও সর্বোপরি ছয় মাস পর ডেন্টাল চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটা অধিক জরুরি।
