রমজানে ব্রাজিলের মসজিদে ধর্মীয় আয়োজন

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৫, ০৫:৫৩ এএম

মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র একটি মাস রমজান। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো ব্রাজিলের মুসলমানরাও এ মাসে সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখেন। মহান আল্লাহর রহমত লাভে বিভিন্ন ইবাদতে নিজেদের আত্মনিয়োগ করেন। মধ্যপ্রাচ্য বা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মতো এত অধিক সংখ্যক মসজিদ ব্রাজিলে নেই। তবুও রমজান মাসে মুসলমানদের মধ্যে ইবাদতের তৎপরতা বেড়ে যায়। যারা মসজিদের কাছাকাছি বসবাস করেন তাদের মধ্যে রমজান পালন বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। রমজানে ব্রাজিলের মসজিদগুলোতে নানা ধর্মীয় কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।

২০১০ সালের আদম শুমারি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সরকারি হিসাবে ব্রাজিলে প্রায় ২ লাখ মুসলমানের বসবাস ছিল। ব্রাজিলের ইসলামি সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী তখন মুসলমানের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ। ব্রাজিল সরকার সবসময় মুসলমানদের প্রকৃত সংখ্যা গোপন করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ব্রাজিলে প্রায় ১৫ লাখ মুসলমান বসবাস করেন। ব্রাজিলের মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন ফেডারেশনের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্সের ডিরেক্টর হিসেবে নিযুক্ত আছেন শায়েখ খালেদ তাকি আল-দ্বীন। তিনি বলেন, ‘রমজান সব মুসলমানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। এই মাসে যেকোনো ভালো কাজ করলে তার সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। একটি দান ৭০টি দানের সমতুল্য হয়, একটি নামাজ ৭০টি নামাজের সমান হয়।’

সাও পাওলোর বিভিন্ন মসজিদ, যেমন সান্তো আমারো, সাও মিগেল এবং পার্শ্ববর্তী শহরগুলোর মসজিদ, যেমন সাও বার্নার্দো দো কাম্পো এবং ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় মসজিদ মেসকিতা ব্রাসিল রমজানে পরিদর্শন করেন আল-দ্বীন। তিনি জানান, রমজান মাসে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি মসজিদগুলোতে আলোচনা সভা এবং কোরআন পাঠের আয়োজন করা হয়। এই সময় ব্রাজিলের মসজিদগুলোতে মিসর থেকে আটজন বিশেষজ্ঞ ইসলামি স্কলার আমন্ত্রিত হয়ে আসেন উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। সাও পাওলো শহরের ব্রাস মসজিদের ইমাম লেবানিজ বংশোদ্ভূত হাসান বুরগি জানান, কিছু মুসলমান ব্রাজিলের সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণে রমজান পালন করতে কিছুটা অসুবিধা অনুভব করলেও তা তাদের রোজা রাখা থেকে বিরত রাখতে পারে না। তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ মুসলমান রমজানের অপেক্ষায় থাকেন এবং এই বিশেষ সময়ের জন্য প্রস্তুতি নেন। রোজা রাখা মহান আল্লাহর আদেশ মান্য করার একটি মাধ্যম এবং এর সামাজিক উপকারিতাও রয়েছে। এই সময় মানুষ একে অপরকে বেশি বেশি সহযোগিতা করে। গত দুই মাস ধরে মসজিদে সাপ্তাহিক ক্লাসের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে নারী, পুরুষ ও শিশুদের রমজানের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য এবং রমজানে কীভাবে অপরের সঙ্গে আচার-ব্যবহার করতে হয় তা শেখানো যায়। আর এই মসজিদে প্রতিদিন প্রায় ২০০ জন লোক ইফতার ও নামাজে অংশ নেয়।’

এখানকার এক ব্যবসায়ী কামাল ওসমান মনে করেন, তার কাছে ব্রাজিলে রমজান পালন করা এবং কোনো ইসলামিক দেশে রমজান পালন করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তিনি বলেন, ‘সবকিছু নির্ভর করে বিশ্বাসের ওপর। যদি আপনি একজন প্রকৃত বিশ্বাসী হন, তবে কোথায় রোজা রাখছেন সেটি কোনো ব্যাপার না। রোজা রাখতে হয় মানবজাতির কল্যাণের জন্য। এটি সেই ব্যক্তিকে শক্তিশালী করে, যে এটি পালন করে। কারণ সে আল্লাহর আদেশ মান্য করছে।’ লেবাননে জন্মগ্রহণ করলেও ব্রাজিলের পারানা প্রদেশের ফোজ দো ইগুয়াসুতে বসবাসকারী কামাল ওসমান নিজেকে ব্রাজিলিয়ান মনে করেন। তার মতে, ঠাণ্ডার সময় রোজা রাখার বিষয়টি খাওয়া-দাওয়ার অনুপস্থিতির কষ্ট কিছুটা লাঘব করে। তিনি বলেন, ‘শীতকালে রোজা রাখা সুবিধাজনক। কারণ দিনের তাপমাত্রা কম থাকে এবং ১২ ঘণ্টা রোজা রাখতে হয়। আর গরমকালে ১৬ ঘণ্টারও বেশি রোজা রাখতে হয়।’

কামাল ওসমান জানান, তিনি রমজানে প্রতিদিন মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়েন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন রাতের খাবার আমি পরিবারের সঙ্গে খাই। কখনো কখনো বন্ধুবান্ধবদের দাওয়াত করি ইফতারের জন্য। শনিবারে আমরা মসজিদে ইফতার করি। রোজা রাখা মানে আশা, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের শিক্ষা গ্রহণ করা। এটি মানুষের মধ্যে অনেক ইতিবাচক গুণের বিকাশ ঘটায়।’

ফোজ দো ইগুয়াসুর ইসলামিক বেনিফিসেন্ট কালচারাল সেন্টারের সভাপতি ফয়সাল ইসমাইল বলেন, ‘এই শহরে মুসলমানের সংখ্যা ২২ হাজার, এদের মধ্যে অনেক ব্রাজিলিয়ান ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এখানে মাগরিবের নামাজে প্রায় ৩০০ জন সমবেত হন। ফজরের নামাজেও প্রায় ৩০০ জন মুসল্লি অংশ নেন। এই সপ্তাহে তরুণদের জন্য রমজান ও ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ নিয়ে একাধিক কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, একশোর বেশি তরুণ এই কোর্সে অংশ নেবে।’

এএনবিএ নিউজ এজেন্সি থেকে ভাষান্তর আতিকুর রহমান

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত