বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা জনগণকে ঘিরে রাজনীতি করি। সুতরাং আজকে দেশের মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে। সেজন্য জনগণের সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে। কিন্তু গণতন্ত্র ও একটি মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আমাদের রয়েছে ঐকমত্য। যেখানে মানুষের কথা বলার অধিকার থাকবে।’
গতকাল মঙ্গলবার গুলশান শুটিং ক্লাবে রাজনীতিবিদ ও নাগরিকদের সম্মানে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (এনডিএম) ইফতার মাহফিলে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এ কথা বলেন।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘সমালোচনা করতে গিয়ে জনগণের দাবি থেকে সরে যাওয়া যাবে না। এমনটা ঘটলে দেশের সকল সম্ভাবনা বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে। সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। বিএনপি দায়িত্ব পেলে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করবে। নির্বাচন ও সংস্কারের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাজার ব্যবস্থা এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে ডিবেট হওয়া উচিত। নিত্যপণ্যের দাম নাগালে আনতে রাজনৈতিক দলগুলো কেন বির্তক করছে না।’
বিএনপির শীর্ষ নেতা বলেন, ‘দেশের বহুল আলোচিত বিষয় হচ্ছে সংস্কার। বিশেষ করে আমরা ছোট, বড়, মাঝারি সব রাজনৈতিক দল মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও একটি সুন্দর পরিবেশের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। প্রায় সব দল মিলে জাতির সামনে আড়াই বছর আগে ৩১ দফা প্রণয়ন করেছি। যখন অনেকেই সংস্কারের কথা বলেননি। আমরা স্বৈরাচারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সংস্কারের কথা বলেছি। আজকে অনেকেই অনেক কথা বলছেন সংস্কার নিয়ে। আমরা স্বাগত জানাই। তবে রাজনীতির মূল লক্ষ্য হলো জনগণ এবং দেশ। অবশ্যই সংস্কারের প্রয়োজন আছে। এসব নিয়ে আলোচনা থাকবেই। বাংলাদেশে এক কক্ষবিশিষ্ট সংসদের পরিবর্তে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হলে কি কি হবে এসব নিয়ে আলোচনা আছে। একজন ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী নিয়ে কথা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়ে কথা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমাদের সবার উচিৎ বেশি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করা। আজকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে দেশের অধিকাংশ মানুষ কষ্ট-যন্ত্রণায় রয়েছেন। তো রাজনীতিকরা কেন এসব বিষয়ে বেশি বেশি ডিবেট করছেন না যে, আমি কীভাবে বাজার ব্যবস্থাপনা সাজাব? উৎপাদন কিভাবে বাড়ানো হবে? কেন এসব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। জাতির সামনে এসব নিয়েও কথা বলা উচিৎ। শুধু সংস্কার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা এসব নিয়ে আলোচনা হলেই চলবে না। কোন দল ক্ষমতায় এলে কীভাবে সমস্যার সমাধান করবে? ’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রায় ২০ কোটি মানুষের দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থা কি হবে? বাজার ব্যবস্থা কী হবে? এসব নিয়ে কথা বলার নামও তো সংস্কার। শুধু কী নির্বাচনের সময় জাতীয় বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কথা বললেই সংস্কার? যাতে মানুষ মিনিমাম চিকিৎসা সুবিধা পায় সেটিও ভাবতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক শিক্ষা দিতে হলে একটি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে। এ বিষয়েও ডিবেট বা কর্মপরিকল্পনা থাকা উচিৎ প্রত্যেকটি দলের। শিক্ষাব্যবস্থাকে কীভাবে দেখতে চাই। সেটিও সংস্কারের অংশ। আমাদের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। বিশ কোটি মানুষের খাদ্য সংস্থান করা ও চাহিদা মেটাতে হলে এটা করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেমন খাল খননের মাধ্যমে কৃষক যে জমিতে এক ফসল হতো সেখানে দুইবার ফসল, দুইবার ফসলের জায়গায় তিনবার ফসল ফলিয়েছেন। বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে বন্যানিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। তিনি কৃষকের মেরুদণ্ড ধীরে ধীরে মজবুত করেছিলেন। এটিও তো অনেক বড় সংস্কার। আমাদের শিল্পোন্নয়নের কথা ভাবতে হবে। কীভাবে উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা দেওয়া যায় সে বিষয়েও চিন্তা করতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে। এটাও কিন্তু অনেক বড় সংস্কার।’
এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কূটনীতিক এবং পেশাজীবীরা।
