ঈদের ছুটিতে সরকারি হাসপাতালে ১৬ নির্দেশনা

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৫, ০৫:৫০ এএম

আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, ইমারজেন্সি ওটি ও ল্যাব সার্বক্ষণিক চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ছাড়া জরুরি বিভাগে প্রয়োজনে অতিরিক্ত চিকিৎসক পদায়ন করে হলেও সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলেছে।

গতকাল মঙ্গলবার অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এমন ১৬টি নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, কর্মস্থলে পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য ঈদের আগে এবং পরে সমন্বয় করে জনবলকে পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিরবচ্ছিন্ন জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ছুটি মঞ্জুর করবেন। সিভিল সার্জন, বিভাগীয় পরিচালককে অবহিত করে শুধু ঈদের ছুটিকালে নিজ জেলার মধ্যে অতিপ্রয়োজনীয় জনবল সমন্বয় করতে পারবেন। হাসপাতালের অন্তঃবিভাগ ইউনিটপ্রধানরা প্রতিদিন তাদের বিভাগীয় কার্যক্রম তদারকি করবেন।

নির্দেশনায় বলা হয়, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি ল্যাব ও এক্স-রে সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। উপজেলাপর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা চালু রাখতে হবে। ছুটি শুরু হওয়ার আগেই ছুটিকালীন সময়ের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ, আইডি ফ্লুইড, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট, সার্ভিক্যালসামগ্রী মজুদ ও তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্টোর কিপার অথবা ছুটিকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফ অবশ্যই নিজ জেলা ও উপজেলায় অবস্থান করবেন।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ঈদের ছুটিতে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। ছুটিকালীন সময়ে হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আগামপত্র দিতে হবে। ছুটিকালে সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণবিষয়ক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা ছুটিকালীন সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করবেন ও ঈদের দিন কুশলবিনিময় করবেন।

নির্দেশনায় এমনও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানপ্রধান ছুটি নিলে অবশ্যই বিধি মোতাবেক কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যাবেন এবং দায়িত্ব গ্রহণকারী কর্মকর্তা সব দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম ও মোবাইল নম্বর ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধান ঈদের দিন রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন তদারকি করবেন এবং রোগীদের সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময় করবেন। বহির্বিভাগ একাধারে ৭২ ঘণ্টার অধিক বন্ধ রাখা যাবে না।

এ ছাড়া সব বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতাল রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের অধীনে সার্বক্ষণিক জরুরি ও প্রসূতি বিভাগ খোলা রাখবে, কোনো রোগী রেফার করার আগে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা এবং যাত্রাপথের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে ও রেফার রোগীদের ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্সপ্রাপ্তির প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে এবং যেকোনো দুর্যোগ, অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে হবে বলেও নির্দেশনায় বলা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত