শিক্ষা দপ্তর বন্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৫, ০৭:২১ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ বন্ধ ঘোষণার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের ইস্ট রুমে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার পর ট্রাম্প বলেন, আদেশটি শিক্ষা বিভাগকে বিলুপ্ত করার প্রথম পদক্ষেপ। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিক্ষা দপ্তর বন্ধ করে দেব। এ দপ্তর ভালো কোনো কাজ করছে না। তবে প্রশাসনিক নির্দেশে বিস্তারিতভাবে বলা হয়নি, কোন প্রকল্প বন্ধ করা হবে। এ সংস্থাটি বন্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলো আর ফেডারেল সরকারের অধীনে থাকবে না। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে শিক্ষা নিয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত এবার অঙ্গরাজ্যগুলো নিজেরাই নিতে পারবে।

নির্বাচনী প্রচারণার সময়ই শিক্ষা বিভাগ বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। যদিও তার এ প্রচেষ্টা আদালতের চ্যালেঞ্জ এবং সাংবিধানিক বাধার সম্মুখীন হতে পারে। কংগ্রেসে আইন পাস ছাড়া এ সংস্থা বন্ধ করতে পারবেন না ট্রাম্প। এ ধরনের সংস্থা বিলুপ্ত করার মতো বড় আইন পাস করতে ৬০টি ভোটের প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত সমর্থন নেই বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রথম মেয়াদেও শিক্ষা বিভাগ বন্ধে ট্রাম্পের প্রস্তাবে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কংগ্রেস।

ট্রাম্পের এমন কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার বলেছেন, শিক্ষা বিভাগ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক এবং বিপর্যয়কর পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি। এ সিদ্ধান্ত কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ক্ষতি করবে। তবে শিক্ষা দপ্তর যদি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ নাও হয়, ট্রাম্প এখানে তহবিল দেওয়া বন্ধ করতে পারেন এবং ব্যাপকহারে কর্মী ছাঁটাই করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ প্রায় ১ লাখ সরকারি এবং ৩৪ হাজার বেসরকারি স্কুলের তহবিল তত্ত্বাবধান করে থাকে। যদিও সরকারি স্কুলের ৮৫ শতাংশেরও বেশি তহবিল অঙ্গরাজ্য এবং স্থানীয় সরকারের কাছ থেকে আসে।

অর্থসংকটে থাকা স্কুল এবং কর্মসূচিগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় অনুদান প্রদান করে থাকে এ বিভাগ। যেমন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার জন্য অর্থ, শিল্পকলা সংক্রান্ত কর্মসূচির জন্য তহবিল এবং পুরোনো অবকাঠামো প্রতিস্থাপনের কাজ করে থাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত