রমজানের অন্যতম শিক্ষা সংযম। কথা, কাজ, ব্যবহার, খাওয়া, পান করাসহ সব কিছুতে সংযম। অথচ রমজানে খাবারের পসরা সাজিয়ে বসে। লাইন দিয়ে মানুষ খাবার কেনে। যেন খাবারটাই মুখ্য। গৃহিণীরা এত ব্যস্ত হন যে, অনেক সময় নামাজও কাজা হয়ে যায়। ইফতারিতে আয়োজনের শেষ থাকে না। টেবিল উপচে পড়ে। মানুষ কতটুকুই বা খেতে পারে? ফলে প্রচুর খাবার নষ্ট হয়। অথচ মহান আল্লাহ বলেন, তোমরা খাও, পান করো। কিন্তু অপচয় কোরো না। নিশ্চয় আল্লাহ অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না। (সুরা আরাফ ৩১)
মহানবী (সা.) ইফতারে খুব সামান্যই খাবার খেতেন। তিনি ইফতারে খেজুর খেতে পছন্দ করতেন। আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) তাজা খেজুর খেয়ে ইফতার করতেন। যদি তাজা খেজুর না থাকত, তাহলে শুকনো খেজুর দিয়ে। যদি শুকনো খেজুরও না থাকত তাহলে কয়েক ঢোক পানি দিয়ে। (তিরমিজি)
সাহরি ও ইফতারিতে যত খুশি খাওয়া যাবে, আল্লাহ এই খাওয়ার হিসাব নেবেন না, এমন একটা কুসংস্কার প্রচলিত আছে। ইসলামের কোথাও এ কথা উল্লেখ নেই।
খুব সামান্য খাবারকে ইফতার বলে। ইফতারের সময় প্রথম যে খাবার বা পানীয় মুখে নেওয়া হয় তাই ইফতার। আভিধানিক বিচারে এর পরের খাবারকে ইফতার বলে না। তাই সাধারণত রাসুল (সা.) একটি মাত্র খেজুর দিয়েই ইফতার করতেন। এরপর কয়েক ঢোক পানি পান করতেন। অথচ তার উম্মত হয়ে আমরা কী করছি? সাহরি ও ইফতারে আমাদের অসংযমী আচরণ রোজার মর্যাদা ক্ষুণœ করছে। আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাসে ইফতার ও সাহরিতে আমাদের সংযমী হতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত আয়োজনকে না বলতে হবে। ইফতার ও সাহরিতে ভূরিভোজ কখনোই ইসলাম সমর্থিত নয়।
