সেনাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি করার চেষ্টা হচ্ছে

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৫, ০৫:৩৪ এএম

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা দেখেছি স্বৈরাচার দেশের প্রত্যেকটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ধবংস করে দিয়েছে। এই মুহূর্তে আমরা দেখতে পারছি, সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হচ্ছে, জনগণের মুখোমুখি করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কদিন আগে আমরা যেমন দেখেছি, সংস্কার ও নির্বাচনকে মুখোমুখি করার চেষ্টা চলছে। ঠিক একইভাবে সেনাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আপনি একজন সাংবাদিক হিসেবে, আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এতটুকু বুঝি,  নিশ্চয় কিছু না কিছু ষড়যন্ত্র আছে। কিন্তু আমরা সকলে মিলে, যদি আমরা যদি সচেতন থাকি, সচেষ্ট থাকি অবশ্যই আমরা এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’

গতকাল সোমবার রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে লেডিস ক্লাবে বিএনপি মিডিয়া সেলের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের জন্য এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে পরিবর্তন হোক, বাংলাদেশে স্থিতিশীল অবস্থা ফিরে আসুক এটাই জনগণ প্রত্যাশা করছে।’

তিনি বলেন, ‘অনেক প্রত্যাশা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, ১৬ বছর রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ত্যাগ স্বীকার করেছে, জুলাই অভ্যুত্থানে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছে, তাদের ত্যাগকে বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। আপনারা (সাংবাদিক) যদি করণীয় বিষয়গুলো আপনাদের অবস্থান থেকে সত্যভাবে জাতির সামনে তুলে ধরেন, তাহলে আমরা এই পরিস্থিতি থেকে উৎরাতে পারব। আর জুলাই-আগস্ট মাসে যেসব বাংলাদেশি নাগরিক স্বৈরাচারকে বিদায় করার জন্য, গণতন্ত্র ও নিজেদের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, প্রতিটি মানুষের এই উৎসর্গ যেন সার্থক হয়, তার জন্য আমাদের সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়াতে হবে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে ভূমিকা পালন করতে হবে।’

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজকে অত্যন্ত সুচতুরভাবে একটা নতুন চক্রান্ত শুরু হয়েছে। সেই চক্রান্ত বাংলাদেশকে আবার অস্থিতিশীল করা, বাংলাদেশকে আবার বিপদে নিমজ্জিত করার জন্য। বাংলাদেশের যে প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে, যে প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, প্রয়োজনীয়, তাদের বিতর্কিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করা হচ্ছে। এটার পেছনে উদ্দেশ্য একটাই- অতীতে যেভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিপন্ন করা হয়েছে, আজকে আবার বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যেন বিপন্ন হয়, আমরা যেন আবার অরক্ষিত হয়ে পড়ি, আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, যারা দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জাতির পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তাদের আজকে বিতর্কিত করার একটা হীন প্রচেষ্টা চলছে। সাংবাদিক বন্ধুরা আপনারা সবসময় জাতির বিবেক হিসেবে জাতির সামনে দাঁড়িয়েছেন। বিপদের মুহূর্তগুলোতে আপনারা জনগণকে সঠিক সংবাদ দিয়েছেন। আপনারা সেই একই ভূমিকা পালন করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘৫ তারিখের আগের যে পরিস্থিতি ছিল সেই পরিস্থিতি যদি আবার ফিরে আসে এই দেশের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। দেশের অস্তিত্বকে নষ্ট করার জন্য দেশে-বিদেশে বহুজন কাজ করছে। গত দুদিনের ঘটনা যদি আমরা দেখি, বহু কিছু বেরিয়ে আসবে। বিষয়টা এত সহজ নয়। আমরা কথা বললেই একজন লোক দেশে রাগ করেন, আরেকজন লোক বিদেশে বসে রাগ করেন। মনে হয়, নির্বাচনের কথা আমি বলেছিলাম, আমরা কথা বলার ৭দিন পরে গতকাল পরশু কয়েকটা রাজনৈতিক দলের সংস্কারের মতামত জমা হয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে। আমি কি ভুল বলেছিলাম? সবাই কমবেশি দ্বিমত পোষণ করেছে। আমি মুখে বলেছিলাম, আপনাদের সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হবে না। এর প্রেক্ষিতে আমার জ্ঞাতি-গোষ্ঠী তুলে গালি-গালাজ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ বলে এই দেশটা কারো বাপের না। আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি। এই দেশটা যদি আমার বাপের না হতো, এই দেশটা যদি আমার দাদার বাপের না হতো, তা হলে আমার হতো না, এদেশটা যদি আমার না হতো তাহলে আমার ছেলের দেশ হতো না। সুতরাং এই কথা যারা বলে, কথা সাবধানে বলবেন। যারা বলেন, এই দেশটা বাপের না। তাদের আমি বলতে চাই, এই দেশটা আমাদের সকলের। এই দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি, প্রয়োজনের আমরা লড়ে যাব।’

দলের যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সঞ্চালনায় ইফতারপূর্ব এই আলোচনা সভায় মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বক্তব্য রাখেন। জাতীয় দৈনিক, সংবাদ সংস্থা, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিক, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতারা ইফতারে অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত