আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অন্তর্র্বর্তী সরকার ধোঁয়াশা তৈরি করছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার একেক সময় একেক বক্তব্য দিয়ে পতিত সরকারের (আওয়ামী লীগ) মতোই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে রিকশা, ভ্যান ও অটোচালকদের মধ্যে ঈদ উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বর না জুনে; এমন দোদুল্যমান বক্তব্য না দিয়ে স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করে জাতিকে আশ্বস্ত করুন।’
তিনি বলেন, ‘অন্তর্র্বর্তী সরকার সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হলেও জনগণের সমর্থন রয়েছে। সব আন্দোলনকারী দল তাদের সমর্থন দিয়েছে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সবার ত্যাগ স্বীকার না করলে অন্তর্র্বর্তী সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হবে।’
রিজভী বলেন, ‘অনেকেই বলেন, আন্দোলন কি হয়েছে শুধু নির্বাচন করার জন্য? নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলেই তো আন্দোলন হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করেননি শেখ হাসিনা। শুধু ক্ষমতা রক্ষার জন্য দেশকে একটি কারবালায় পরিণত করেছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘১২২টি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা এখনো বেতন আর ১৫০ কারখানার শ্রমিকরা বোনাস পাননি। সরকারের দায়িত্ব শ্রমিকদের বেতন ভাতার ব্যবস্থা করা।’ এ সময় অবিলম্বে শ্রমিকদের বেতন-বোনাসের ব্যবস্থার দাবি জানান রিজভী।
সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে ১৭ জন রিকশাচালক ভাই জীবন দিয়েছেন। আমি তাদের বাসায় গিয়েছি। তাদের পরিবারের সদস্যরা কষ্টে জীবনযাপন করছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের পরিবার যেন না খেয়ে না থাকে। তাদের পরিবারের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্বও নিতে হবে। পরিবারের সদস্যের যারা চাকরি পাওয়ার উপযুক্ত তাদের চাকরি দিতে হবে।’
‘বিএনপি নেতা ইশরাক ন্যায়বিচার পেয়েছেন’ এমন দাবি করে রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার দেশের নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করেছিল। সে সময় চোর-ডাকাতরা এমপি হতো আর ভালো মানুষদের জায়গা হতো কারাগারে। বেগম খালেদা জিয়া তার উদাহরণ। যদি দেশে সত্যিকার গণতন্ত্র থাকত তাহলে ২০১৪ সালেই বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হতেন।’
