যানজটের সঙ্গে ডাকাতিরও শঙ্কা

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৫, ০১:৪৬ এএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এবারের ঈদযাত্রায় যানজটের ভোগান্তিবিষয়ক দুশ্চিন্তার পাশাপাশি পরিবহন ডাকাতি বড় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাঁচপুর থেকে মেঘনা ব্রিজ পর্যন্ত এলাকায় পাঁচটি স্পটে পরিবহনে ডাকাতির আতঙ্কে রয়েছেন এ পথের চালক ও যাত্রীরা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর অংশে পরিবহনে ডাকাতির ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে বলে জানিয়েছেন পরিবহনের চালকরা।

পিরোজপুরের আষাঢ়িয়ারচর ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন স্থানে অহরহ পরিবহনে ডাকাতি হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতার সুযোগে সম্প্রতি পরিবহনে ডাকাতির ঘটনা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। তাই ঈদুল ফিতরের সময়ে এ মহাসড়কে যাতায়াতকারী যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে।

ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ এ মহাসড়কে ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। কাঁচপুর থেকে মেঘনা পর্যন্ত একাধিক ইউলুপ থাকায় এবং কাঁচপুর ব্রিজ থেকে নামার পথে ওভারপাস থাকায় বেশ কয়েক বছর ধরে এ সড়কে ঈদে তেমন যানজট হয় না বলে জানিয়েছেন পরিবহনচালকরা। তবে গাড়ির চাপ বাড়লে মেঘনা ব্রিজে টোল আদায়ে ধীরগতি সৃষ্টি হতে পারে; এজন্য কিছুটা যানজট সৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে।

মেঘনা টোলপ্লাজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ছয়টি কাউন্টারে টোল আদায়ের কাজ চলছে। ঈদ উপলক্ষে আরও ছয়টি নতুন কাউন্টারে টোল আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে যানজট এড়ানো যায়।

জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাড়কের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর থেকে মেঘনা ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ পরিবহন ডাকাতচক্র দীর্ঘদিন ধরে যানবাহনে ডাকাতি করছে। তারা রাতে তো বটেই, দিনের বেলায়ও ডাকাতি করে। পিরোজপুর ও মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ডাকাতরাও এর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে জানিয়েছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। এ চক্রের বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

গত দুই মাসে মহাসড়কের একাধিক স্থানে কয়েকটি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা যাওয়ার পথে দুই প্রবাসী আবু হানিফ ও রাজিব ভূঁইয়াকে এ সড়কের কেওঢালা এলাকায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে এ মহাসড়কের আষাঢ়িয়ারচর এলাকার সিরাজুল ইসলাম নামের এক কুয়েতফেরত যাত্রী সপরিবারে ডাকাতির মুখে পড়েন। ডাকাতরা তাকে বহনকারী গাড়িতে হামলা চালিয়ে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা ও মালামাল এবং মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে যায়।

সর্বশেষ গত ১৫ মার্চ দুপুরে মহাসড়কের দড়িকান্দি এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে দিনেদুপুরে ‘দিবা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি বেসরকারি কোম্পানির ম্যানেজারের মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ডাকাতি করা হয়।

এ সড়কে চলাচলকারী মাইক্রোবাসচালক আল আমিন জানান, যানজটে গাড়ি যখন থেমে থাকে তখন সড়কের দুই পাশের যে স্থানীয় রাস্তা আছে, সে রাস্তা ধরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ডাকাতরা আকস্মিক হামলা চালায়। গাড়ির গ্লাস ভেঙে অস্ত্র ঠেকিয়ে দ্রুত সবকিছু লুট করে পালিয়ে যায়। তাদের বাধা দিলেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। যানজটের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনও ঘটনাস্থলে যথাসময়ে পৌঁছাতে পারে না।’

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি যানজট নিরসনে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি কাজী ওয়াহিদ মোরশেদ বলেন, ‘ঈদযাত্রায় যাত্রীদের চলাচল নির্বিঘœ করতে নিরাপত্তা টহল বাড়ানো হয়েছে। যানজট নিরসনে প্রতিটি স্পটে হাইওয়ে পুলিশের টিম রয়েছে। পরিবহনে ডাকাতির বিষয়ে আমরা সজাগ রয়েছি। আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।’

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) আসিফ ইমাম বলেন, ‘এবারের ঈদযাত্রায় মানুষ যাতে নিরাপদে গন্তব্যে যেতে পারে, সেজন্য পাঁচটি টহল টিম দেওয়া হয়েছে। ডাকাতি-ছিনতাই রোধ করতে আমরা বাড়তি সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করেছি। মহাসড়ক জুড়েই ঈদের আগে ও পরে অতিরিক্ত পুলিশ থাকবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত