মিয়ানমারে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। মিয়ানমারে অবস্থিত জাপানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, গত বুধবার পর্যন্ত অন্তত তিন হাজার তিন জন মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত করা গেছে। আহত হয়েছেন আরও সাড়ে চার হাজার মানুষ এবং ৩৫১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ভূমিকম্পের পর মিয়ানমারে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। জাপান দূতাবাস জানিয়েছে, উদ্ধারকাজে ৫৩টি উড়োজাহাজ এবং ১৫ দেশের এক হাজার ৯০০ কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। ওই কর্মীদের মধ্যে চীন, রাশিয়া ও ভারতের নাগরিকও রয়েছেন। তবে অনিয়মিত মৌসুমি বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় উদ্ধারকাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী রবিবার থেকে শুরু করে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত অনিয়মিত মৌসুমি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ও দুর্গত লোকজনের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টারত উদ্ধারকর্মী ও ত্রাণকর্মীদের জন্য নতুন হুমকি সৃষ্টি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এ ভূমিকম্পে দুই কোটি ৮০ লাখ মানুষের দেশটিতে বহু সেতু, ভবন ধসে পড়েছে, বহু এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ খাবার, পরিষ্কার পানি ও বাসস্থানের সংকটে পড়েছেন। বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেক অঞ্চলে ত্রাণ সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন ত্রাণকর্মীরা। এই পরিস্থিতির মধ্যে দেশটির আবহাওয়া কর্মকর্তারা বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই রবিবার থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। মান্দালয়, সাগাইং ও রাজধানী নেপিডোর মতো যেসব এলাকা ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে অঞ্চলগুলোতেই বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। রয়টার্সকে এক উদ্ধারকর্মী বলেন, এখনো অনেকে জীবন্ত আটকা পড়ে আছেন। তবে বৃষ্টি শুরু হলে ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মান্দালয়, সাগাইং এবং নেপিডোর উদ্ধারকাজ যথেষ্ট কঠিন হয়ে পড়বে। মান্দালয়ের মতো জায়গায় আটকা পড়া অনেকে বৃষ্টির পানিতে ডুবে মারা যেতে পারেন। বৃষ্টি শুরু হলে দেশটিতে যে ব্যাপক ত্রাণ প্রচেষ্টা চলছে তা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এমনিতেই সেতু, মহাসড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ত্রাণকর্মীকের পক্ষে দুর্গত বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে আছে। ফলে বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
এদিকে, মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ২০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে জান্তা সরকার। গত বুধবার থেকে শুরু হয়ে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত এমআরটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। মিয়ানমারের জান্তা সরকার বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো একতরফাভাবে আগেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। তাদের এ ঘোষণার পর সামরিক বাহিনীর এ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। তবে সেনাবাহিনী সতর্ক করেছে, এখন কোনোভাবেই কারও ওপর হামলা চালানো যাবে না এবং পুনরায় সংগঠিতও হওয়া যাবে না। এ নিয়ম মানা না হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি জানিয়েছে সামরিক বাহিনী।
