গাজীপুরের শ্রীপুরে চলন্ত ট্রেনের একটি বগিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ট্রেনের ওপরে থাকা যাত্রীদের আর্তচিৎকারে চালক টের পেয়ে স্টেশনের অদূরেই ট্রেনটি থামাতে সক্ষম হয়। এ সময় বেশ কজন যাত্রী ট্রেনের ওপর থেকে লাফিয়ে নিচে নামেন। বাগির ভেতরেও বেশ কিছু যাত্রী ছিলেন তারাও লাফিয়ে নেমে পড়েন। পরে চালক ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতা চান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর মধ্যে একটি বগি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর রেলস্টেশন এলাকায় ট্রেনে এ অগ্নিকা-ের ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে ঢাকা- ময়মনসিংহ রেলপথে সকল ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরে অন্তত চার ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে যাওয়া মহুয়া কমিউটার ট্রেনে আগুন লাগার এই ঘটনাটি ঘটে। তবে আগুন লাগার বিষয়টি কোনো নাশকতা নাকি নিছক দুর্ঘটনা তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোহনগঞ্জের পথে যাওয়া মহুয়া কমিউটার ট্রেনটি সাতখামাইর রেলস্টেশনের একটু আগে আসতেই ট্রেনের পেছনের একটি বগির আগের বগিতে আগুন দেখা দেয়। এ সময় ট্রেনটি ধীরগতি ছিল। পরে যাত্রীরা আর্তচিৎকার শুরু করছে, সবার মাঝে আগুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে
চালকের দক্ষতায় দ্রুত ট্রেনটি থামানো গেলে যাত্রীরা হুড়াহুড়ি করে নেমে পড়েন। এ সময় তাড়াহুড়া কররে নামতে গিয়ে বেশ কজন যাত্রী সামান্য আহত হয়েছেন।
ট্রেনে থাকা যাত্রী ইসমাইল হোসেন বলেন, শ্রীপুর থেকে ছেড়ে আসার পর সাতখামাইর রেলস্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছলে ট্রেনের শেষে দিকের একটি বগিতে হঠাৎ আগুন দেখা যায়। পরে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দাউ দাউ করে আগুনের লেলিহান শিখা বাড়তে থাকে। চেষ্টা করে ট্রেনটি সেখানে থামানো হয়। এ সময় আগুন লাগা বগিটিকে মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দূরে সরিয়ে রাখা হয়।
ট্রেনের টিকিট চেকার (টিটিআই) শহীদুল ইসলাম বলেন, আমি পাশের অন্য একটি বগিতে দায়িত্ব পালন করছিলাম। পরে পাশের পেছনের একটি বগি থেকে চিৎকার শোনে বুঝতে পারি আগুন লাগে ট্রেনের বগিতে। পরে গার্ডকে বলে ট্রেন থামানো হয়। এ সময় আমরা বালি পানি অগ্নিনির্বাপক গ্যাস দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু আগুনের ভয়াবহতা বেশি হওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুন বলেন ট্রেনে আগুর লাগার খবর পেয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে দুটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আধা ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এর মধ্যে বগির আশি শতাংশ পুড়ে গেছে। এখনো আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি জয়নাল আবেদীন ম-ল বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ট্রেনের পাওয়ার বগিতে আগুন আগে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মানুষের মাঝে ভয় কাজ করেছে। অনেকে হুড়াহুড়ি কররে নামতে গিয়ে সামান্য আহত হয়েছেন।
শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে এ রেলপথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। পুড়ে যাওয়া বগিটি আলাদা লাইনে রাখা হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজিব আহম্মেদ বলেন, ট্রেনে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত সচিব স্যারের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে। ট্রেনের একটি পাওয়ার বগিতে আগুন লাগে বলে জানতে পেরেছি। তবে এ ঘটনায় কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এটাই স্বস্তির খবর। এখন একটি উদ্ধার বগি (রিলিফ ট্রেন) এনে পুড়ে যাওয়া বগিটি নিরাপদে সরানোর কাজ চলছে।
