ভ্রমণপিয়াসী, বিনোদনপ্রেমী, অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় প্রায় লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত এখন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। রমজানের একমাস বন্ধ থাকার পর পর্যটকদের এমন সমাগমে উজ্জীবিত পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। সোমবার থেকে পর্যটকের আগমনে এখন মুখরিত মিস্ত্রিপাড়া, গঙ্গামতি, ঝাউবন, তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, বাউলি বন, ক্রাব আইল্যান্ড, শুঁটকি পল্লী, ফিশফ্রাই পল্লীসহ সকল পর্যটন স্পট। আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে জেলা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।
একই বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করার দেশের একমাত্র সৈকত কুয়াকাটা। ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বেলাভূমির একদিকে রয়েছে নিঃসীম জলরাশি, অপরদিকে সবুজ অরণ্য। উপজাতি রাখাইন সম্প্রদায়ের জীবনাচারণসহ শ্রীমঙ্গল ও সীমা বৌদ্ধবিহার, পুরাকীর্তির নৌকাসহ সমুদ্রগামী জেলেদের প্রতিদিনকার জীবনাচারণ, ইতিহাস-ঐতিহ্য কুয়াকাটাকে করেছে আরও সমৃদ্ধ। এরই টানে সাগরকন্যা কুয়াকাটায় অবকাশ যাপনে বিভিন্ন উৎসবের ছুটিতে ছুটে আসছে হাজারো পর্যটক। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ঈদুল ফিতরের টানা ৬ দিনের ছুটিতে ঈদের প্রথম দিন থেকে প্রতিদিন প্রায় লাখো পর্যটকের সমাগমে উৎসব আমেজ বিরাজ করছে সাগরকন্যায়।
খালি নেই হোটেল-মোটেল-কটেজ-রিসোর্টের কোনো কক্ষ। আবাসিক হোটেল, মোটেল, কটেজ, রিসোর্ট সব কানায় কানায় পূর্ণ। বুকিং না থাকায় অনেক পর্যটক পড়েছেন ভোগান্তিতে। খাবার হোটেলে খাবার না পেয়ে অনেককেই বিপাকে পড়েছেন। বিক্রি বেড়েছে পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিপণিবিতানগুলোতে। ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতা। বিক্রি বেড়েছে শুঁটকি মার্কেটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সমুদ্র নোনা জলে গা ভাসিয়ে আগত পর্যটকরা আনন্দ উল্লাসে মাতোয়ারা। কেউবা প্রিয়জনের সঙ্গে সেলফি তুলে স্মৃতির পাতায় রেখে দিচ্ছেন। ১৮ কিলোমিটার সৈকতের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন অনেকে। অনেকে বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করছেন সমুদ্রের তীরে আছড়েপড়া ঢেউসহ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্য। স্পিডবোটে মাঝ সমুদ্রে ঘুরে আসছেন কেউবা। সুন্দরবনের দক্ষিণাংশের ফাতরার বন টেংরাগিরি বন ঘুরে আসছেন অনেকে পর্যটক নিয়ে। কেউবা সাগর পাড়ি দিয়ে ছুটছেন সমুদ্র বক্ষে জেগে ওঠা নতুন দ্বীপ চর বিজয় দেখতে।
কুয়াকাটায় ট্যুরিজম ব্যবসায় জড়িতরা জানান, ২০২১ সালে ১২ লাখেরও বেশি পর্যটকের আগমন ঘটে কুয়াকাটায়। যা গড়ে প্রতিমাসে ছিল এক লাখ। পদ্মা সেতু চালুর পর মাত্র ৫ মাসে এ সংখ্যা তিনগুণ ছাড়িয়ে গেছে। আধুনিক পর্যটন সুবিধা ও নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীতে অন্তত অর্ধশতাধিক হোটেল- মোটেল-কটেজে ও রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যে নতুন করে নির্মাণ হয়েছে। তবে বিগত মৌসুম থেকে পর্যটন ব্যবসায় ছিল চরম মন্দা। লাভ না হলেও এবারের পর্যটক আগমনে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।
তবে সৈকতের অব্যাহত ভাঙন, অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোর ভগ্নদশা, অপরিচ্ছন্ন সৈকত, নির্দিষ্ট প্লেজোন, সুইমিং জোন না থাকাসহ আবাসিক হোটেলের সংকটে আগত পর্যটকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির দুর্বল কার্যক্রম, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পর্যটন করপোরেশনের দুর্বল ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ অনেক পর্যটক ও ব্যবসায়ীর।
পরিবার নিয়ে নাটোর থেকে আসা পর্যটক যোসেপ বলেন, সকালে সৈকতে এসে প্রভাতের দক্ষিণের হিমেল হাওয়া মনে যে প্রশান্তি এনে দিয়েছে তা এ জীবনে পাইনি। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সাগরের লবণজলে সাঁতার কেটে যাত্রাপথের ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে। যশোর থেকে আসা জয়নুল আবেদীন বলেন, বুকিং না থাকায় ভালো মানের হোটেলে কক্ষ পাইনি। অনেক সময় ঘুরতে হয়েছে। খাবার দোকানেও একই আবস্থা।
হোটেল ফ্রেন্ডস পার্ক ইনের ব্যবস্থাপক পারভেজ জানান, রুম সব আগেই বুকিং হয়ে গেছে। সম্মানীত অনেক পুরনো গেস্ট কক্ষ না পেয়ে ফিরে গেছেন।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ৪ স্তরের নিñিদ্র নিরপত্তায় মাঠে কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্য, থানা পুলিশ, নৌপুলিশসহ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও মাঠে কাজ করছে। পর্যটকরা নিরাপদে তাদের ভ্রমণ উপভোগ করতে পারে সেজন্য ২৪ ঘণ্টাই তৎপর রয়েছে প্রশাসন ।
পদ্মাপাড়ে বিনোদনপিপাসু মানুষের ঢল: রাজশাহীরে বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ঈদের আনন্দ যেন শেষই হচ্ছে না। লম্বা ছুটিতে মানুষ ঘুরছেন বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে। নগরীর বিনোদন স্পটগুলোতে ঈদের বিকেল থেকেই চলছে উপচেপড়া ভিড়। আরও কয়েক দিন বিনোদনপিয়াসী মানুষের এই ভিড় অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজশাহী নগরীর বিনোদনপিপাসু মানুষের সব থেকে পছন্দের জায়গা দখল করে নিয়েছে পদ্মা নদীর পাড়। গত চার দিনে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটে বিস্তীর্ণ পদ্মাপাড়ে।
