থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেছেন। গত বছরের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর দেশ দুটির সরকারপ্রধানের এটিই প্রথম বৈঠক।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ৪০ মিনিটের ওই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে এ বিষয়ে নয়াদিল্লিতে ব্রিফিং করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।
সংবাদ সম্মেলনে বিক্রম মিসরি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী (নরেন্দ্র মোদি) একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘জনগণ-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে’ বিশ্বাস করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। দু’দেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা যে বাস্তবিক ফল বয়ে এনেছে, তাও তিনি বিশেষভাবে বলেছেন।’
মিসরি জানান, দুই দেশের সম্পর্কের ‘পরিবেশ নষ্ট’ করে এমন কথা এড়িয়ে চলতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অনুরোধ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে সীমান্তে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং বিশেষ করে রাতে অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধেও আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের’ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সেসব ‘নৃশংসতার’ পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আহ্বানও বৈঠকে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশ সরকার তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে, একইসঙ্গে তাদের ওপর ঘটানো নৃশংসতার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করবে।’
এদিকে বাংলাদেশের উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, প্রফেসর ইউনূস বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় তুলে ধরেছেন। বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জবাব, ভারতে তিনি যে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, গঙ্গার পানি চুক্তি নবায়ন ও তিস্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুতের পর ভারতে তার অবস্থান ও ‘সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার’ বিষয়কে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে দিল্লি-ঢাকা উত্তেজনার পর করার পর এই প্রথম মোদি-ইউনূস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
