দ. কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাচ্যুত

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৩০ এএম

দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে তার পদ থেকে অপসারণ করেছে। গতকাল শুক্রবার দেশটির সাংবিধানিক আদালত এ রায় দেয়। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, অভিশংসিত প্রেসিডেন্টের স্থায়ী অপসারণের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে নতুনভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগপর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী হান ডাক সু।

ইউন সুক-ইওলকে অভিশংসনের যে সিদ্ধান্ত দক্ষিণ কোরিয়ার পার্লামেন্ট নিয়েছিল, তাতে দেশটির সাংবিধানিক আদালত সম্মতি দেওয়ায় কয়েক মাস ধরে চলমান অস্থিরতাময় অধ্যায়ের সমাপ্তি হতে চলেছে। চলমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনের সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছিল সিউল। আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মুন হিউং-বে শুক্রবার রায় ঘোষণার শুরুতেই প্রেসিডেন্ট ইউনকে অপসারণের যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ইউন সামরিক ও পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কর্র্তৃত্ব দুর্বল করেছেন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছেন। আর এর মধ্য দিয়ে তিনি সংবিধান রক্ষার সাংবিধানিক দায়িত্বের জলাঞ্জলি দিয়েছেন এবং কোরিয়ার জনগণের সঙ্গে গুরুতর বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাংবিধানিক আদালতের এ রায় সর্বসম্মত। এ রায়ের ফলে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৬০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে।

৬৪ বছর বয়সী ইউন রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এখনো ফৌজদারি বিচারের মুখোমুখি। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আরও একটি অভিযোগ এখনো বিচারের অপেক্ষায়। গত বছর ৩ ডিসেম্বর হঠাৎ সামরিক আইন জারি করে সবাইকে বিস্মিত করে দেন প্রেসিডেন্ট ইউন। তিনি দাবি করেন, সরকারে রাষ্ট্রবিরোধী ও উত্তর কোরিয়াপন্থি শক্তির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। তবে জনগণ ও পার্লামেন্টের চাপে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর তিনি সামরিক আইন তুলে নিলেও দক্ষিণ কোরিয়া গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়ে যায়। পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছেন, বিরোধী রাজনীতিবিদদের আটক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ইউন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত