নদী শুকিয়ে যাওয়ায় কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বৈঠাখালী হাওরের তিন হাজার একর বোরো ক্ষেতে সেচ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকার কয়েক হাজার কৃষক। সেচের পানির অভাবে হাওরের একমাত্র ফসল বোরো নিয়ে শঙ্কায় আছেন কৃষকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধনু নদীর শাখা শুকিয়ে যাওয়ায় কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার কলমা, পূর্ব অষ্টগ্রাম ও সদর ইউনিয়নের গায়েলা, বর্দলি, ছাতিয়া, কেউডা, জলডুব, কবিরখান্দানের চর, কান্তা বাঁধাঘাট, মাছিল্লাসহ বিভিন্ন হাওরের ৭-৮টি সেচ প্রকল্প প্রায় ১৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এ কারণে অনেক জমি পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বৈঠাখালী নদীর দুই তীরে তিনটি ইউনিয়ন জুড়ে কয়েক হাজার একর বোরো জমিতে এ অবস্থা দেখা দিয়েছে। এসব জমিতে সেচের একমাত্র উৎস ছিল এই নদী।
কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদী শুকিয়ে গেছে। আর বর্ষার সময় আটকে রাখা পানি ইতিমধ্যে চাষাবাদে শেষ হয়ে গেছে। এতে ৭-৮টি সেচ প্রকল্পের আওতাধীন প্রায় ৩ হাজার একর বোরো জমিতে প্রায় ১৫ দিন ধরে সেচ বন্ধ রয়েছে। সেচের অভাবে সবুজ ধানের জমি ক্রমেই ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন কৃষকরা।
এলাকার কৃষক ইছব আলী বলেন, হাওরাঞ্চলে এখন বোরো ধানের শীষ বের হওয়ার সময়। এই সময়ে জমিতে পানি না থাকায় যে শীষ বের হবে তা খুব দুর্বল হবে। এতে ধানে চিটার পরিমাণ বেশি থাকবে। জলডুব হাওরের কৃষক মানিক মিয়া বলেন, চলতি মৌসুমে বন্ধ হওয়া সেচ প্রকল্পগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু করতে হলে বৈঠাখালী নদীতে দুই কিলোমিটার নালা খনন করে সেচব্যবস্থা চালু করতে হবে। তা না হলে আমার মতো হাজারো কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পূর্ব অষ্টগ্রামের কৃষক বাছির মিয়া বলেন, জমিতে সঠিক সময়ে সেচ দিতে না পারায় এবার ধান কম হবে। আমরা চাই এই নদীতে আপাতত একটা নালা কেটে সেচের ব্যবস্থা করে দিতে। এতে কৃষকের ফসল রক্ষা হবে।
অষ্টগ্রাম বড় হাওরের কৃষক মতি মিয়া বলেন, ‘আমরা কৃষক, আমরা একমাত্র এই বোরো ধান উৎপাদনের ওপর নির্ভশীল। এবার আমাদের হাওরে তীব্র সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। সেচ সমস্যার দ্রুত সমাধান দরকার। এছাড়া নৌচলাচল স্বাভাবিক রাখতে বৈঠাখালী নদী খননের বিকল্প নেই।’
অষ্টগ্রাম সদর ইউপির চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, ‘বৈঠাখালী নদী শুকিয়ে যাওয়ায় ১৫-১৬ দিন জমিতে সেচ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত এখানে নালা খনন করে সেচ প্রকল্প চালুর দাবি করছি। অন্যথায় হাজার হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
বিএডিসি (সেচ) অষ্টগ্রামের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আছাদুল হক বলেন, সেচ সংকটের কথা শুনে সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তা অবহিত করেছি। এই মুহূর্তে জমিতে সেচ না দিলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন হাজারো কৃষক। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে জমিতে দ্রুত সেচের ব্যবস্থা করার জন্য চেষ্টা চলছে।
