বাংলাদেশে ব্যবসা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদানকারী স্টারলিংককে অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা)। এখন আবেদনের মাধ্যমে এনজিএসও (নন-জিওস্টেশনারি অরবিট) লাইসেন্স পেলেই বাংলাদেশে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরু হবে।
গতকাল রবিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট-২০২৫’ উপলক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ৯০ দিনের মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তার পরিপ্রেক্ষিতেই ২৯ মার্চ স্টারলিংককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’
বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলনের ভেন্যু রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ৯ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করা হবে। সেখানে উপস্থিত সব অংশগ্রহণকারী সেটি ব্যবহার করতে পারবেন। এ ছাড়া স্টারলিংকের ইন্টারনেট ব্যবহার করে সম্মেলনের সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
যারা সামিটে যাবেন তারা পার্সোনাল ডিভাইস (ব্যক্তিগত মোবাইল বা অন্যান্য ডিভাইস) স্টারলিংকে কানেক্ট করে এক্সপেরিয়েন্স করতে পারবেন বলে জানান আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
প্রসঙ্গত, বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে কাজ করতে হলে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা) থেকে নিবন্ধন নিতে হয়।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, পরিচালনার জন্য যে নন-জিওস্টেশনারি অরবিট (এনজিএসও) লাইসেন্সের প্রয়োজন, স্টারলিংকের আবেদন করার কথা রয়েছে। নিয়ম মেনে আবেদন করলে অনুমোদন দেওয়া হবে। এতে বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা করার জন্য কোনো বাধা থাকবে না।
আশিক চৌধুরী আরও বলেন, স্টারলিংকের হয়তো ডিভাইস ইম্পোর্ট (আমদানি) করে আনতে একটু সময় লাগতে পারে বা তারা এখানে কী মডেলে অপারেট করবে, সেসব ব্যাপারে হয়তো তারা নিজেরা কিছু ডিসিশন নেবে।
বিনিয়োগ সম্মেলনে স্টারলিংক প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের যোগ দেওয়ার বিষয়ে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘ইলন মাস্ক এ সামিটে আসবেন, এরকম কোনো ঘোষণা আমরা কখনো দিইনি। ইলেকশনের পর তিনি আমেরিকার সরকারি কর্মকর্তা হয়ে গেছেন। তাকে বাংলাদেশে আনার জন্য আমাদের একটা প্রসেসের ভেতর দিয়ে যেতে হবে, যেটা ওভারনাইট (রাতারাতি) হয় না। একজন ব্যবসায়ীকে আনার জন্য ব্যাপারটা যত সহজ ছিল, কোনোভাবে কানেক্ট করে নিয়ে আসতে পারতাম, এখন তাকে আনাটা একটা স্টেট প্রোগ্রাম। মাস্ককে আনার ব্যাপারে কথাবার্তা চলছে। কিন্তু এটা এ সামিটে হচ্ছে না।’
এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্কের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়। সেখানে বাংলাদেশের জন্য স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রযুক্তি খাতের ব্যক্তিরা বলছেন, স্টারলিংক বাংলাদেশে এলে দুর্গম এলাকায় খুব সহজে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যাবে। ফলে ইন্টারনেট সেবার ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের পার্থক্য ঘুচে যাবে। গ্রামে বসেই উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করে ফ্রিল্যান্সিংসহ ইন্টারনেটভিত্তিক কাজ করতে পারবেন তরুণরা। দুর্যোগের পর দ্রুত যোগাযোগ প্রতিস্থাপনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে স্টারলিংক।
