দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান আবদুল মোমেন বলেছেন, ব্রিটিশ এমপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দালিলিক প্রমাণ হাতে নিয়েই মামলা করা হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দিতে পারেননি বলেই ব্রিটেনের মন্ত্রী পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। গতকাল রবিবার দুপুরে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলায় অভিযুক্ত টিউলিপ সিদ্দিকের বিলেতি আইনজীবীর পাঠানো পত্রের জবাব আমরা দিইনি। স্কাই নিউজের সূত্র উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন তার সঙ্গেও যোগাযোগ করেনি।
আবদুল মোমেন বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন তার আইনজীবীকে এবং আইনজীবীর মাধ্যমে টিউলিপ সিদ্দিককে জানিয়েছে সম্পূর্ণভাবে দালিলিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই আদালতে দুর্নীতির চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। আদালতে হাজির হয়ে তারা সেই অভিযোগের মোকাবিলা করেন। এটি কম্পাউন্ডেবল কোনো মামলা নয়, চিঠি লেখালেখি করে মামলার পরিণতি নির্ধারিত হবে না। বিষয়টি এখন আদালতের ওপর নির্ভর করবে। যদি পরোয়ানা জারির পর তিনি (টিউলিপ) হাজির হতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাকে পলাতক অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে। এটি শুধু টিউলিপ সিদ্দিকের ক্ষেত্রে নয়, শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকসহ অন্যান্য পলাতক আসামির ক্ষেত্রেও একই আইনি প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হবে।
সাকিব দুর্নীতি মামলার আসামি হতে পারেন : দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘দুর্নীতির অভিযোগে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে আমাদের অনুসন্ধান চলছে। তিনি দুর্নীতি মামলার আসামি হতে পারেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতি মামলার আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত আনার চেষ্টা চলছে।’
গতকাল দুপুরে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক জানতে চান সাকিব আল হাসান একসময় দুদকের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর ছিলেন। এখনো তিনি আপনাদের আইকন আছেন কি না। জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলমান। সাকিব আল হাসান দুদকের মামলায় আসামিও হতে পারেন। এখনো বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। অনুসন্ধান শেষে বলা যাবে।’
আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানকে ২০১৮ সালে দুদকের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর করা হয়েছিল। ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে এক চুক্তিতে বিনা পারিশ্রমিকে একটি তথ্যচিত্রও করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ২০২২ সালে তাকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর থেকে বাদ দেওয়া হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়ে দুদক কোনো উদ্যোগ বা ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল মোমেন বলেন, ‘দুদক হচ্ছে প্রসিকিউটর। অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট ইস্যু আমরা করি না। এটা আদালতের কাজ। দ্রুত সময়ে আদালত থেকে ওয়ারেন্ট অব অ্যারেস্ট আপনারা পাবেন। আসামি যদি অ্যাবসকন্ডিং (পলাতক) হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে সে আসামিকে ফেরত আনার জন্য প্রক্রিয়া আছে। ইন্টারপোলসহ অন্যান্য যেসব প্রক্রিয়া আছে, আমরা সেসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করব। আন্তর্জাতিক প্রসিকিউটিং এজেন্সিগুলোর সঙ্গেও আমাদের যোগাযোগ আছে। আমরা সেভাবে এগাব।’
দুদক গ্রেপ্তার অভিযান চালাবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুদক কিন্তু পুলিশি প্রতিষ্ঠান না। দুদককে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিয়ে কাজ করতে হয়। আমরা সবাই মোটামুটি জানি, বড় বড় আসামি কে দেশে আছে আর কে দেশে নেই। সে ক্ষেত্রে যারা দেশে নেই, তাদের একটা আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ফিরিয়ে আনতে হবে। যেটা একটা কঠিন প্রক্রিয়া।’
দুদক আগের নিয়মেই বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সমর্থকদের বিরুদ্ধে কাজ করছে এমন অভিযোগের বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা কাজ শুরু করি ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর। এ পর্যন্ত দুদক থেকে ছাড়া পেয়েছে এমন একটা নামও বলতে পারবেন না। আদালত থেকে ছাড়া পেয়েছেন। আদালত তো আমার বিষয় নয়। দুদক দল নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা কোনো বিশেষ দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করিনি।’
দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী বলেন, “দুদক দুশমন দমন কমিশন নয়। দুদক দুর্নীতি দমন কমিশন। আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’।
সংবাদ সম্মেলনে দুদক কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ ও দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
