যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল বন্ধ হওয়ায় বিশ্ব জুড়ে হাজার হাজার মানবিক কর্মসূচি থমকে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সহায়তা বন্ধের প্রভাব ক্রমশ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে দক্ষিণ সুদানের স্বাস্থ্য খাতে দাতা সংস্থার তহবিল বন্ধের ভয়াবহতা দেখা গেছে। নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র তহবিলের অভাবে বন্ধ থাকায় তিন ঘণ্টা হেঁটে হাসপাতালে পৌঁছাতে গিয়ে মারা গেছে কলেরা আক্রান্ত আট রোগী। তাদের মধ্যে পাঁচজনই শিশু। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সেভ দ্য চিলড্রেন গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধের কারণে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশাপাশি পরিবহন সুবিধাও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে, চিকিৎসা নিতে ওই আটজনকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তিন ঘণ্টা হেঁটে হাসপাতালে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হয়েছে। সংস্থাটির দক্ষিণ সুদান কার্যালয়ের পরিচালক ক্রিস্টোফার নিয়ামান্ডি জানিয়েছেন, মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়সই ছিল পাঁচের নিচে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নীতি নির্ধারণ করছেন। সেই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আলোকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সহায়তা স্থগিতে নির্বাহী আদেশ জারি করেন তিনি। নিয়ামান্ডি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এক দেশের ক্ষমতাবানদের খেয়ালে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অন্য দেশের শিশুরা মারা পড়ছে। এসব দেখে নৈতিকতা রক্ষায় বিশ্বব্যাপী সবার ফুঁসে ওঠা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তে আগামী বছরগুলোতে অপুষ্টি, এইডস, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া এবং অন্যান্য রোগে লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি হতে পারে। এদিকে, সেভ দ্য চিলড্রেনের অভিযোগের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে একজন মুখপাত্র বলেন, দক্ষিণ সুদানে জরুরি সহায়তা সংক্রান্ত একাধিক কার্যক্রম এখনো চালু রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তিনি আরও বলেন, জরুরি কর্মসূচিগুলো চালিয়ে যাওয়া হলেও, দক্ষিণ সুদানের রাজনৈতিক নেতাদের দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে, এমন কাজে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের করের অর্থ ব্যবহার করতে দিতে পারি না।
