পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে চলছে মঙ্গল শোভাযাত্রার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। শোভাযাত্রার আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামটি পরিবর্তন করে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’, ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বা অন্য কোনো নাম করার গুঞ্জন উঠে। শোভাযাত্রার নাম কি হবে তা গতকাল বৃহস্পতিবার জানানোর কথা থাকলেও আজ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম চঞ্চল।
তিনি বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই এটা নিয়ে আলোচনা চলছে। নাম পরিবর্তন হবে না-কি আগের নামই অপরিবর্তিত থাকবে তা আগামীকাল (শুক্রবার) সংবাদ সম্মেলনে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’
এর আগে, গত মঙ্গলবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেবে। আগামী ১০ এপ্রিল এ বিষয়ে এশটি বৈঠক হবে, যেখানে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।’ সে হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার নাম ঘোষণা করার কথা থাকলেও আজ তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
চারুকলার রীতি অনুযায়ী, শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ২৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের। কিন্তু তারা আয়োজনে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে এবারের বৈশাখী উৎসব বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা বলছেন, ‘এ আয়োজন দেশের পরিবর্তনকালীন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে।’ তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন ২৬তম ব্যাচ এখন ‘সাবেক’ শিক্ষার্থী। চলমান শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে কাজ করছেন।
এদিকে গতকাল বিকেলে চারুকলায় ঘুওে দেখা যায়, বাঁশ- বেতের কারুকাজে তৈরি হচ্ছে এক দৈত্যাকৃতির ‘ফ্যাসিবাদী প্রতিকৃতি’, যার উচ্চতা হবে প্রায় ২০ ফুট। যেখানে সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি মুখাবয়বের দুপাশে থাকবে শিংয়ের মতো অবয়ব। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি এবারের শোভাযাত্রার প্রধান মোটিফ হিসেবে থাকছে। এ ছাড়া, লোকজ মোটিফের কাঠের বাঘ, শান্তির প্রতীক কবুতর, পালকি ও বিশালাকৃতির ইলিশ মাছও থাকছে শোভাযাত্রায়।
তাছাড়া, গেল বছরের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে তৈরি করা হচ্ছে মীর মুগ্ধের আলোচিত ‘পানি লাগবে’-এর ১৫ ফুট উচ্চতার একটি পানির বোতল। এর ভেতরে থাকবে একাধিক খালি বোতল, যা শহীদদের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।
‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবার পালিত হবে বাংলা নববর্ষ উদযাপন। আনন্দ আর প্রতিবাদের মিলনমেলায় নতুন বছরকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত বাংলার মানুষ। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক আয়োজন আর সচেতনতার বার্তায় মুখরিত হবে পহেলা বৈশাখের দিনটি। মঙ্গল শোভাযাত্রার সার্বিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক কমিটিগুলো কাজ করছে। পাঁচটি উপকমিটি হয়েছে। ৯টি ওয়ার্কিং কমিটিও কাজ করছে পুরোদমে।
এদিকে, চৈত্রসংক্রান্তির দিন অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চারুকলার বকুলতলায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও যাত্রাপালার মঞ্চায়ন। আর নববর্ষের দিন সকালেই বের হবে সেই আলোচিত শোভাযাত্রা, যেখানে তুলে ধরা হবে বাংলার লোকজ ঐতিহ্য এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী বার্তা। ১৯৮০-এর দশকে সামরিক শাসনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রা ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায়। এবারের আয়োজনেও সেই ইতিহাস ও চেতনারই প্রকাশ থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
