ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে ফ্রান্স

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৪৯ এএম

চলতি বছরের জুনে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে ফ্রান্স। আমেরিকার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কনফারেন্সে এ নিয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল। স্থানীয় সময় বুধবার ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ফাইভ টেলিভিশনকে মাঁকো বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির দিকে যেতে হবে এবং এটি আমরা কয়েক মাসের মধ্যে করব। আমাদের লক্ষ্য হলো জুনে সৌদি আরবের সঙ্গে জাতিসংঘের কনফারেন্সে নেতৃত্ব দেওয়া। যেখানে আমরা একাধিক পক্ষের সঙ্গে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করতে পারব।

কাউকে খুশি করতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিকে যৌক্তিক ও আবশ্যক অভিহিত করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।’ মাঁকো আরও বলেন, ‘আমি এটি করব। কারণ আমি মনে করি, একটি সময় এটি সঠিক হবে এবং আমি একটি যৌথ গতিশীলতাতে যুক্ত হতে চাই। ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন আলাদা দুটি রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে বলে আসছে। তবে তারা এতদিন ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স যদি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে এটি তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ১৪৬টিই ফিলিস্তিনকে সার্বভৌম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মধ্যে গত বছর ফিলিস্তিনকে সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে আর্মেনিয়া, সেøাভেনিয়া, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, স্পেন, বাহামাস, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, জ্যামাইকা ও বার্বাডোস। এদিকে, ফ্রান্সের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভার্সেন আঘাবেকিয়ান শাহিন।’

তিনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ফ্রান্সের স্বীকৃতি ফিলিস্তিনের অধিকার রক্ষা এবং দ্বি-রাষ্ট্রনীতির জন্য একটি সঠিক পদক্ষেপ হবে।

ফ্রান্স ফিলিস্তিনিকে স্বীকৃতি দিলে ক্ষুব্ধ হতে পারে দখলদার ইসরায়েল। কারণ তারা দাবি করছে, এখনই ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত হবে অপরিপক্ব। মাঁকোর এই ঘোষণার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে যেকোনো একতরফা স্বীকৃতি হামাসের হয়ে ভূমিকা রাখবে। এটি হামাসের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হবে। এদিকে, গাজা সিটির শুজাইয়া এলাকায় গত বুধবার একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে ইসরায়েলের একাধিক বিমান হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত ও ৫৫ জন আহত হয়েছে। হামলায় আরও ৮০ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। হতাহত ব্যক্তির অধিকাংশই শিশু ও নারী বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, গাজার উত্তরাঞ্চলের শেজাইয়া থেকে হামলার পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়ন করার জন্য দায়ী হামাসের এক জঙ্গিকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। বাহিনীটি দাবি করেছে, এই আক্রমণ চালানোর আগে বেসামরিক হতাহত কমাতে তারা বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছিল। রয়টার্স জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী শেজাইয়া থেকে বাসিন্দাদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এখানে তাদের সেনারা হামাসের যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে বলে জানিয়েছিল। দুই মাস ধরে এক নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চলার পর ১৮ মার্চ থেকে গাজায় ফের বোমাবর্ষণ শুরু করে ইসরায়েল। পর ইসরায়েলের সেনারা স্থল অভিযান শুরু করে। তারপর থেকে তিন সপ্তাহে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় দেড় হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে, ইসরায়েলকে নিয়ে বর্তমানে অধিকাংশ মার্কিন নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। সম্প্রতি পিউ রিসার্চের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ মার্কিন এখন ইসরায়েলের বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। ২০২২ সালের মার্চে করা এক জরিপে এ হার ছিল ৪২ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটরা ইসরায়েলের প্রতি বেশি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে থাকেন। সর্বশেষ জরিপে ৬৯ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ও ৩৭ শতাংশ রিপাবলিকান ইসরায়েলকে নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেছেন। গাজা যুদ্ধ শুরুর আগে ২০২২ সালে ২৭ শতাংশ রিপাবলিকান ইসরায়েলের বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব রাখতেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত