হাসিনা-পুতুলসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৫৪ এএম

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের মামলায় গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার একটি আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন মামলাসংক্রান্ত অভিযোগপত্র শুনানির জন্য গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে আদালত আগামী ৪ মে গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের দিন ঠিক করে।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার; রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন; প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার; জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব পুরবী গোলদার; রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, কবির আল আসাদ, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, মো. নুরুল ইসলাম; সাবেক পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম, সাবেক উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং শরীফ আহমেদ।

গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়ার পর এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং দুর্নীতির অভিযোগের চারটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলো। গত বছরের ১৭ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলাতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপর পৃথক সময়ে গুমের অভিযোগে এবং মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকা-ের অভিযোগের দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারির নির্দেশ আসে ট্রাইব্যুনাল থেকে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের আরও পাঁচটি মামলা রয়েছে। আর তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে এই প্রথম কোনো ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ হলো।

গত ১২ জানুয়ারি রাজউকের প্লট নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। মামলার এজাহারে বলা হয়, ঢাকার ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় নিজের ও পরিবারের অন্য সদস্যদের মালিকানায় ঢাকা শহরে রাজউকের এখতিয়ারাধীন এলাকায় বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকার পরও সেটি গোপন করে পূর্বাচল নতুন শহর আবাসন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত আইন, বিধি ও নীতিমালা ও আইনানুগ পদ্ধতি লঙ্ঘন করে মা শেখ হাসিনার ক্ষমতার অপব্যবহার করে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল সরকারের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ও পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে বহাল থাকা অবস্থায় তার ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে প্রকল্পের বরাদ্দ বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত গণকর্মচারীদের প্রভাবিত করেছেন।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইনসম্মত পারিশ্রমিক না হওয়া সত্ত্বেও, আইনমতে বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও পরস্পর যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হয়ে ও অন্যকে লাভবান করার উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর সড়কের ১৭ নম্বর প্লট সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে বরাদ্দ দিয়েছে। গত ১০ মার্চ তদন্ত কমকর্তা আফনান জান্নাত কেয়া শেখ হাসিনা, পুতুলসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত