নির্বাচিত হয়েছিলেন ছাত্র হল সংসদের সদস্য

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৫, ১২:১৫ এএম

জাতীয় অধ্যাপক ড. সুফিয়া আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ইন্টারমিডিয়েটে (বর্তমানে এইচএসসি সমমান) সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে সব শিক্ষার্থীর মধ্যে অষ্টম স্থান অধিকার করেছিলেন। এত ভালো ফল করার পরও সে সময়ের নতুন বিষয় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে ভর্তি হওয়ার কথা তার নয়। কিন্তু করতে বাধ্য হয়েছিলেন পারিবারিক কারণে। তার ইচ্ছা ছিল রাষ্ট্রবিজ্ঞান কিংবা ইংরেজি বিষয় নিয়ে পড়ার। কিন্তু সে সময়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম ছিলেন তার বাবা বিচারপতি মুহম্মদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ, পরিচিত। সৈয়দ মোয়াজ্জেমের ইচ্ছাতেই তার বাবা ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে ভর্তি করান। বাবার ইচ্ছায় ভর্তি হলেও সাবসিডিয়ারি বিষয় নিয়েছিলেন নিজের পছন্দে, ইংরেজি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান।

সুফিয়া আহমেদের শিক্ষাকাল ছিল ১৯৫০ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত। ঢাকা বিশ^বিদ্যলায়ে সহশিক্ষা কার্যক্রম প্রচলিত থাকলেও পুরুষ সহপাঠীর সঙ্গে নারী সহপাঠীর মেলামেশা বা কথাবার্তার সুযোগ ছিল না। নারী শিক্ষার্থীরা তাদের জন্য নির্ধারিত কমন রুমে অপেক্ষা করতেন। ক্লাসের সময় পিয়ন গিয়ে তাদের ডেকে নিয়ে আসতেন। এমন সময়ে সুফিয়া আহমেদ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন একটি ছাত্র হল থেকে। আসলে, সে সময়ে নারীদের জন্য কোনো হল ছিল না। সুফিয়া আহমেদ অ্যাটাচটেড ছিলেন সলিমুল্লাহ হলের সঙ্গে। ফলে সেখান থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার এবং নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনি অসুবিধা ছিল না। সে জন্যই তিনি নারী শিক্ষার্থী হয়েও একটি পুরুষ শিক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত হল থেকে সদস্য নির্বাচিত হতে পেরেছিলেন।

 সে সময়ে নারী শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের সব জায়গায় যেমন প্রবেশাধিকার ছিল না, তেমনি তারা পুরুষ সহপাঠীদের সঙ্গে কথাও বলতে পারতেন না। কথা বলতে চাইলে প্রক্টর বরাবর দরখাস্ত করে অনুমতি নিতে হতো। যেতে পারতেন না মধুর ক্যান্টিনে। কিছু খেতে ইচ্ছে হলে সিøপ লিখে পাঠালে মধুদা পাঠিয়ে দিতেন খাবার। তবে একসঙ্গে খাওয়া বা আলোচনা করতে না পারলেও মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে একসঙ্গে মিছিল করতে তাদের কেউ বাধা দিতে পারেনি। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সেই মিছিলে অংশগ্রহণ করেছিলেন, খেয়েছিলেন পুলিশের লাঠির বাড়ি।

সুলতানা রাজিয়া

(সুফিয়া আহমেদের ‘ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে আমার ছাত্রজীবন’ নিবন্ধ অবলম্বনে)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত