যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বাংলাদেশি রপ্তানির ওপর আরোপিত উচ্চশুল্কের ৯০ দিনের বিরতির সময়কালে সরকারকে এই সুযোগ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল শনিবার গুলশান ক্লাবে এক আলোচনা সভায় অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতা, সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনীতিবিদরা সতর্ক করেন যে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই উচ্চশুল্ক পর্যালোচনার জন্য আলোচনা না করা হয়, তবে বাংলাদেশের বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ‘মার্কিন শুল্ক বাংলাদেশের রপ্তানি : পাল্টা কৌশল এবং আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ’ শীর্ষক এই গোলটেবিল আলোচনা সভার আয়োজন করে।
বক্তারা দ্রুত এবং সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যাতে শিল্প সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বোঝা, বাংলাদেশ কী পরিমাণ ছাড় দিতে পারে তা মূল্যায়ন করা এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল অনুষ্ঠানের পরিচালনা করেন এবং পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন।
ব্যবসায়ী নেতারা সতর্ক করেছেন যে, এই পাল্টা শুল্ক প্রত্যাহার করাতে না পারলে তা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের শেয়ার বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।
ড. মাশরুর রিয়াজ বলেন, ‘এই ৯০ দিনের বিরতির পর কী হবে তা এখনো অস্বচ্ছ। আমাদের এই বিষয়ে কাজ করতে হবে এবং সমাধান খুঁজতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কী অফার করা সম্ভব তা বিশ্লেষণ করতে হবে’ এবং উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ রপ্তানি বাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সক্ষম। তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু কৌশলগত বিকল্প প্রস্তাব করতে হবে যাতে সাপ্লাই চেইনের অবকাঠামো ছড়িয়ে দেওয়া যায়।’ তিনি এটাও জোর দেন যে, শুধুমাত্র কূটনৈতিক আলোচনার ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বরং বাজারভিত্তিক সমাধান খোঁজা উচিত ব্র্যান্ড এবং ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে। একই সময়ে, আমাদের সেক্টরভিত্তিক প্রভাব মূল্যায়ন করা উচিত।
ড. মাশরুর রিয়াজ আরও পরামর্শ দেন একটি বহুমুখী অংশীদারত্ব কৌশল গ্রহণের জন্য, যার মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করা, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আমদানি বাড়ানো এবং বাজারভিত্তিক সমাধান খোঁজার জন্য ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা অন্তর্ভুক্ত।
পাল্টা শুল্ক ইস্যুতে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার এবং বেসরকারি খাতকে একক অবস্থান গ্রহণ করা উচিত। এই বিষয়ে বিপরীত মতামত প্রকাশ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ড. রিয়াজ সরকারকে প্রোডাক্ট-বেসইড উদ্যোগ গ্রহণের জন্য পরামর্শ দেন, যেমন যুক্তরাষ্ট্রের তুলা রপ্তানিকারক কোম্পানিগুলোর জন্য বন্ডেড গুদাম সুবিধা প্রদান।
শওকত আজিজ রাসেল বলেন, বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে হবে। তিনি মার্কিন বাজার থেকে তুলা আমদানি করে সেখানে পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের জন্য তুলাভিত্তিক পোশাক উৎপাদন করার প্রস্তাব দেন। এছাড়া তিনি সরকারি সমর্থন-আর্থিক এবং নীতিগত এবং বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধির জন্য আহ্বান জানান। যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেক্সটাইল খাতে প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বাড়ানো যায়।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও বিজিএমইএর প্রশাসক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি নতুন সুযোগও এসেছে। তিনি আরও বলেন, গত ১৫-২০ বছরে এনবিআর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে অনেক সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো এখন বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। তিনি আরও পরামর্শ দেন যে, ৯০ দিনের শুল্ক স্থগিতকরণের সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো উচিত।
