সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:২৫ এএম

আগামী ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

গতকাল শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় ঐকমত্য কমিশনের দুই সদস্যের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই তাগিদ দেন।

বৈঠকে অংশ নেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ এবং সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য গঠন) মনির হায়দার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে অধ্যাপক আলী রীয়াজ ও ড. বদিউল আলম মজুমদার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে কমিশনের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। তারা জানান যে, বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশসমূহ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা চলমান রয়েছে। শনিবার পর্যন্ত মোট ৮টি দলের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণ করা আছে।

তারা আরও জানান, সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে জনমত যাচাই এবং সে বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ সময় কমিশনের সভাপতি এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা তথা সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন।

গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশের হাল ধরে।

দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে রাষ্ট্র সংস্কারে দুই ধাপে ১১টি কমিশন গঠন করে সরকার। প্রথম ধাপের ছয়টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে পাঁচটির গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছাতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ২০ মার্চ থেকে সংলাপ শুরু করেছে।

তবে সংস্কার উদ্যোগের মধ্যে বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে সরব হয়ে উঠেছে। তারা চায় প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে সরকার দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করবে।

অন্যদিকে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ কয়েকটি দল চায় সংস্কার পুরোপুরি শেষ করে নির্বাচন করতে।

সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, কম সংস্কার করে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হলে এ বছর ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। আর যদি সংস্কার পুরোপুরি শেষ করার পক্ষে মত দেয়, তাহলে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে।

গত বুধবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক হবে আগামী ১৬ এপ্রিল; যেখানে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনের রোডম্যাপ চাওয়া হবে। সেদিন বেলা ১২টায় এ বৈঠকের সূচি ঠিক হয়েছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপিকে নিয়ে নানান খবর প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সালাহউদ্দিন।

গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে সুনির্দিষ্টভাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ডিসেম্বরের আগে একটা রোডম্যাপ অবশ্যই চাইব। যাতে উনি ক্লিয়ারলি জাতির সামনে যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করেন, যাতে জাতির মধ্যে যে একটা অনিশ্চিত-অস্থিরতার যে ভাব আছে এবং রাজনীতিতে যাতে স্থিতিশীলতা আসে, অর্থনৈতিক কর্মকা-ে যাতে একটা গতিশীলতা আসে সেগুলো লক্ষ রেখে আমরা বলব যে, এটা যথেষ্ট সময়।’

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার কথা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তারা (নির্বাচন কমিশন) জুনের মধ্যে সমস্ত প্রস্তুতি সমাপ্ত করতে পারবে এবং প্রধান উপদেষ্টা ইতিপূর্বে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সমস্ত কর্মকা- পরিচালনা করছেন। যেহেতু বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে একটা ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে সেটা পরিষ্কার করার জন্য আমরা ওনার কাছে এই আহ্বান জানাব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত