দুই মৌসুমে চেলসির মালিকের লোকসান ১ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৫, ১০:০৪ এএম

প্রিমিয়ার লিগে মাঠের লড়াইয়ে এখন পঞ্চম স্থানে চেলসি। ফুটবলের দুনিয়ায় এটি খুব একটা খারাপ অবস্থান নয়। তবে ক্লাবটির চেহারা যদি সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, তাহলে চেলসির বাস্তবতা অনেক বেশি দুর্বিষহ—বিশেষ করে মাঠের বাইরের আর্থিক খাতে।

চেলসির মূল কোম্পানি '২২ হোল্ডকো লিমিটেড'-এর সর্বশেষ আর্থিক হিসাব প্রকাশ্যে আসতেই দেখা গেল, গত দুই মৌসুমে প্রতিষ্ঠানটির ক্ষতির পরিমাণ একেবারে বিশাল। ২০২২ সালে টড বোয়েলির মালিকানায় যাওয়ার পর এই গ্রুপটি ক্ষতির মুখ দেখেছে ১০০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে হাজার কোটি টাকার ওপরে।

এই ২২ হোল্ডকো লিমিটেড কেবল চেলসিরই নয়, ফ্রেঞ্চ ক্লাব আরসি স্ত্রাসবুর্গ ও চেলসি নারী দলেরও মালিক। প্রতিষ্ঠানটি ২০২২-২৩ মৌসুমে লোকসান গুনেছে ৪৪ কোটি ৫৫ লাখ পাউন্ড, আর এর আগের মৌসুমে ক্ষতির অঙ্ক ছিল ৬৫ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড। মূলত দলবদলের বাজারে বেপরোয়া ব্যয়ের কারণেই এমন আর্থিক বিপর্যয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বোয়েলির মালিকানায় যাওয়ার পর থেকেই ফুটবলার কেনায় অঢেল টাকা ঢেলেছে চেলসি। দুই মৌসুমে ট্রান্সফারে ব্যয় হয়েছে ১০০ কোটিরও বেশি পাউন্ড। যার মধ্যে এনজো ফার্নান্দেজের জন্য ব্যয় ১০ কোটি ৬৭ লাখ পাউন্ড, ময়েজেস কাইসেদোর জন্য ১১ কোটি ৫০ লাখ, মিখাইলো মুদরিকের জন্য ৮ কোটি ৮০ লাখ এবং ওয়েসলি ফোফানার জন্য ৭ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড।

অন্যদিকে, চেলসি ক্লাব নিজে অবশ্য ২০২৩-২৪ মৌসুমে ১২ কোটি ৯৬ লাখ পাউন্ড মুনাফার তথ্য দিয়েছে। তবে এই মুনাফা ও মূল প্রতিষ্ঠানের বিশাল ক্ষতির পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে হয়েছে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক কাঠামোকে।

চেলসি নারী দলের একটি সহযোগী কোম্পানির মাধ্যমে ২০ কোটি পাউন্ড এবং স্টামফোর্ড ব্রিজে থাকা দুটি হোটেলের ৭ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড বিক্রি করা হয়েছে। এই অর্থ ক্লাবের হিসাব অনুযায়ী লাভ হলেও মূল কোম্পানির হিসাবে তা যুক্ত হয়নি, কারণ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নীতিমালায় এই আয় আলাদা করে গণ্য হয়।

সব মিলিয়ে মাঠে যেমন, মাঠের বাইরেও কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে চেলসি। খেলোয়াড় কেনার মতো সাহসিকতা থাকলেও, তার আর্থিক মূল্য দিতে গিয়ে ক্লাবটি এখন চাপে পড়ে গেছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত