আমদানি বন্ধের খবরে হিলিতে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:০৯ এএম

ভারত থেকে চাল আমদানির অনুমতির মেয়াদ শেষের দিকে। এতে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বেড়েছে চাল আমদানি। বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি হলেও ১৫ তারিখের পর থেকে আমদানি বন্ধের খবরে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্দরে প্রতি কেজি চালের দাম ২ থেকে ৩ টাকা করে বেড়েছে। এদিকে দেশে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চাল আমদানির মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ানোর পরামর্শ বন্দরের আমদানিকারকদের।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে স্বর্ণা, শম্পা কাটারি ও মিনিকেট জাতের চাল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। আগে বন্দর দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক চাল আমদানি হলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ১২০ থেকে ১৫০ ট্রাক করে চাল আমদানি হচ্ছে। তবে আমদানি বাড়লেও চালের দাম আগের তুলনায় ২-৩ টাকা করে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। হিলি স্থলবন্দরে কিছুদিন আগে স্বর্ণা জাতের চাল ৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৩ টাকা কেজি দরে। আর সরু জাতের সম্পা কাটারি চাল ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬৭ থেকে ৬৮ টাকা দরে। কেউ কেউ আরও এক থেকে দুই টাকা বাড়তি দাম চাইছেন। এদিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেন সব চাল দেশে প্রবেশ করতে পারে, সেই লক্ষ্যে আজ সোমবার পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিনেও ভারত থেকে পণ্য আমদানি খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমদানি-রপ্তানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ীরা।

হিলি স্থলবন্দরে চাল কিনতে আসা পাইকার ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘কিছুদিন ধরেই হিলি স্থলবন্দর থেকে আমদানি করা চাল কিনে দেশের বিভিন্ন মোকামে সরবরাহ করে আসছিলাম। দুদিন আগেও বন্দরে যে দামে চাল কিনেছিলাম, আজ কিনতে এসে দেখি সব ধরনের চালের দাম তার তুলনায় কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা করে বেড়ে গেছে। কিছু কিছু চালের ক্ষেত্রে সেই সীমা বেড়ে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। ১৫ তারিখের পর থেকে ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে এমন খবরের ভিত্তিতেই চালের দাম বাড়তির দিকে উঠে গেছে। এতে করে আমাদের কিনতে সমস্যা হচ্ছে। যদি চাল আমদানি নিয়মিত থাকত, তাহলে বাজারটা নিয়ন্ত্রণে থাকত। এখন যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে চালের দাম ৫-৭ টাকা করে বেড়ে যেতে পারে,’ বলেও জানিয়েছেন তিনি।

হিলি স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘চাল আমদানির অনুমতির মেয়াদ ছিল ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর আর বাড়ানো হবে না। এতে করে আমাদের আমদানিকারকদের বেশ কিছু চালবোঝাই ট্রাক ভারত অভ্যন্তরে আটকা রয়েছে। সেই সঙ্গে আমদানিকারকদের এলসি পেন্ডিং রয়েছে, সব চাল দেশে প্রবেশ করেনি। এর ওপর যদি ১৫ তারিখের পর আর মেয়াদ না বাড়ানো হয়, তাহলে আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, ‘চাল আমদানির অনুমতির সময়সীমা ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। সেই পর্যন্ত অনুমতিপ্রাপ্ত আমদানিকারকরা চাল আমদানি করতে পারবেন। বর্তমানে সময়সীমা থাকায় শেষ মুহূর্তে চলে আসায় চাল আমদানিতে জোর দিয়েছেন আমদানিকারকরা। প্রতিদিন বন্দর দিয়ে যেসব পণ্য আমদানি হচ্ছে, তার মধ্যে অধিকাংশ রয়েছে চাল। বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক করে চাল আমদানি হচ্ছে ভারত থেকে। আমদানি করা এসব চাল যেন বন্দর থেকে দ্রুত ছাড়করণ করে দেশের বাজারে বাজারজাত করতে পারেন, সেজন্য সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা পণ্যের বিল অব এন্ট্রি সাবমিট করামাত্র আমদানি করা চাল পরীক্ষণ শুল্কায়ন করে শুল্ক আহরণ সাপেক্ষে দ্রুত ছাড় করে দেওয়া হচ্ছে। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গত ১১ নভেম্বর থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ২ লাখ ৫২ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত