ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদ থেকে সাম্প্রদায়িক সংঘাত

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৩৩ এএম

ভারতের সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে যে সহিংসতা শুরু হয়েছিল, গত সোমবার তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করার দাবি করেছিল রাজ্য পুলিশ। তবে পুলিশের দাবির পরেই সেদিন জাফরাবাদ এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। আবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ভাঙ্গরেও ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে বিক্ষোভকারীদের।

তবে মুর্শিদাবাদের ঘটনা কীভাবে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের রূপ নিল, সে প্রশ্নটাই বড় হয়ে সামনে উঠে আসছে। প্রথম দফায় গত মঙ্গল ও বুধবার এবং দ্বিতীয় দফায় শুক্র ও শনিবার বাংলাদেশে সীমান্তবর্তী সুতি ও সমশেরগঞ্জ এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়েছিল। এর মধ্যে শনিবার স্পষ্টতই ওই সহিংসতা সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের চেহারা নেয়। সেদিন তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল যাদের দুজন হিন্দু ও একজন মুসলমান। রাজ্য পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সেদিন রাত থেকেই সুতি ও সমশেরগঞ্জ থানা এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ যৌথভাবে টহল দিচ্ছে। রাজ্য পুলিশের অতিরিক্ত মহানির্দেশক (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার সোমবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ওই দুটি থানা এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই বিভিন্ন দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। তবে শনিবারের ঘটনা আর রবিবার সকালে মুর্শিদাবাদ থেকে যে তথ্য আর ছবি পাওয়া গেছে, তাতে বোঝাই যাচ্ছে যে, গ্রামাঞ্চলের সেই সৌহার্দ্যে বড়সড় চিড় ধরেছে, অন্তত ওই একটি অঞ্চলে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বলছেন, ‘গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে যত সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বা দাঙ্গা হয়েছে, প্রায় সবকটি ক্ষেত্রেই তা হয়েছে শহর বা শহর লাগোয়া এলাকায়। গ্রামাঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সাধারণত দেখা যায়নি। তার ভাষ্য, এবারই দেখছি মুর্শিদাবাদের গ্রামীণ এলাকাতেও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটে গেল। কারা ঘটাল, কীভাবে ঘটল সেটা তো পুলিশের কাজ খুঁজে বের করা। কিন্তু অন্যান্য ঘটনার ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি গোড়ার দিকে পুলিশ-প্রশাসন সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থামাতে কিছুটা সময় নিলেও রাতের দিকে বা এক দিনেই পরিস্থিতি সামলে নেয়। এবারেই দেখলাম দিন পাঁচেক সময় লেগে গেল পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে।’

কারা কীভাবে মুর্শিদাবাদের প্রতিবাদ আন্দোলনকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় বদলে দিল, তার চিত্রটা পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান নেতৃত্বের কাছে এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তারা একটা কথা সবাই স্বীকার করছেন, শনিবার যে ঘটনা হয়েছে, তা সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে সারা দেশে চলমান আন্দোলনকে ধাক্কা দেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত