পূর্বাচলে প্লট নিয়ে অনিয়ম

শেখ হাসিনা-জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:২৪ এএম

রাজধানীর পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে পৃথক দুই মামলায় গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার একটি  আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

অন্য যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তারা হলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য তন্ময় দাস, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য শফি উল হক প্রমুখ। আসামিদের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের জন্য আগামী ২৯ এপ্রিল দিন ধার্য করে আদালত।

গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়ার পর এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টে গণহত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং দুর্নীতির অভিযোগসহ ছয়টি মামলাতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলো। আর তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে প্রথম কোনো মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলো। গত বছরের ১৭ অক্টোবর গণহত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলাতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপর পৃথক সময়ে গুমের অভিযোগে এবং মতিঝিলে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকা-ের অভিযোগের দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ আসে ট্রাইব্যুনাল থেকে। গত ১০ এপ্রিল প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে শেখ হাসিনা, তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে একই আদালত। এ ছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজউক থেকে ৩০ কাঠা প্লট গ্রহণের পৃথক তিন মামলায় শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, রেহানার ছেলে রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিকসহ ৫৩ বিরুদ্ধে গত ১৩ এপ্রিল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে বিচারিক আদালত। এর মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা তার ছেলে-মেয়ে এবং শেখ রেহানা ও তার ছেলে-মেয়ে সবার বিরুদ্ধে মামলা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলো।

গতকাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া প্রথম মামলায় শেখ হাসিনাসহ গৃহায়ন ও রাজউকের কর্মকর্তাসহ ১২ জন আসামি এবং দ্বিতীয় মামলায় শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ গৃহায়ন ও রাজউকের কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে দুদক।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ মালিকানায় ও তার ছেলে, মেয়ে, বোন, বোনের মেয়ে ও বোনের ছেলের নামে ঢাকা শহরে বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকার পরও তা হলফনামায় গোপন করেন এবং পূর্বাচল নতুন শহর আবাসন প্রকল্পের বরাদ্দ সংক্রান্ত আইনবিধি ও নীতিমালা ও আইনানুগ পদ্ধতি লঙ্ঘন করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) গণকর্মচারীদের প্রভাবিত করে নিজে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকারের সর্বোচ্চ পদাধিকারী পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে দায়িত্বরত ও বহাল থাকা অবস্থায় নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের অতি মূল্যবান কূটনৈতিক এলাকায় ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার ৯ নম্বর প্লট নিজ নামে বাস্তব দখলসহ রেজিস্ট্রিমূলে গ্রহণ করেন। যা দ-বিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় দ-যোগ্য অপরাধ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত